ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর
ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতায় বিস্মিত ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ১৪:৩১
ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা ইসরায়েলকে বিস্মিত করেছে /ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউজে দেখা করা প্রথম বিদেশি নেতা ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে এবার ট্রাম্প যখন প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে মধ্যপ্রাচ্যে এসেছেন, তখন তার সফরসূচিতে ইসরায়েলের নামই নেই—এ বিষয়টি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
খবরে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর প্রশাসন ট্রাম্পের সফরে ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যাপকভাবে লবিং করেছিল। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল দূত মাইক হাকাবি শনিবার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক এখনো দৃঢ়’।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সফরসূচির বাইরে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেককেই ভাবাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তার মধ্যপ্রাচ্য কৌশলে হয়তো নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে—যা দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের জন্য অস্বস্তিকর।
গত সোমবার ইসরায়েলি-আমেরিকান জিম্মি এডান আলেকজান্ডারের মুক্তি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও হামাসের আলোচনার মাধ্যমে হয়। যেখানে ইসরায়েলকে পাশ কাটানো হয়েছে।
এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা ইসরায়েলকে বিস্মিত করেছে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে তীব্রভাবে ভর্ৎসনা করেন গাজা যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় বন্দি বিনিময় চুক্তিতে অনিচ্ছা দেখানোর কারণে—এমন প্রতিবেদনও রয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য নেতানিয়াহু আবার হোয়াইট হাউজে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
এ সফরে ট্রাম্পের মূল অগ্রাধিকার অর্থনৈতিক বিষয়। কূটনীতি বা নিরাপত্তা নয়। বরং বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যই তার লক্ষ্য। আর সেই দিক থেকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ধনী আরব দেশগুলো ইসরায়েলের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, যতবারই নেতানিয়াহু ওভাল অফিসে ঢুঁ মারুন না কেন, ট্রাম্পের কাছে আরব অর্থনীতিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েলের জন্য এখন একটাই আশার কথা—যে হয়তো খুব শিগগিরই আবার যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ তাদের দিকে ফিরবে।
ওএফ

