Logo

আন্তর্জাতিক

‘ভারতের কর্তৃপক্ষ আমাদের হাত বেঁধে নৌকায় তুলল, তারপর সমুদ্রে ফেলে দিল’

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৮

‘ভারতের কর্তৃপক্ষ আমাদের হাত বেঁধে নৌকায় তুলল, তারপর সমুদ্রে ফেলে দিল’

নুরুল আমিন তার ভাইয়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিলেন গত ৯ মে। সেই ফোনকল সংক্ষিপ্ত হলেও তখন যে খবর আসে, তা ছিল ভেঙে পড়ার মতো।

নুরুল আমিন জানতে পারেন, যে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভারত সরকার জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ, এর মধ্যে তার ভাই কায়রুল এবং আরও চারজন আত্মীয় আছেন। এটা কিন্তু সেই দেশ যেখান থেকে কয়েক বছর আগে ভয়ে পালিয়ে এসেছিলেন তারা। খবর বিবিসি’র।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা জান্তা এবং জাতিগত মিলিশিয়া ও প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে চলা নৃশংস গৃহযুদ্ধে জর্জরিত অবস্থায় রয়েছে মিয়ানমার।

নুরুল আমিনের তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে।

চব্বিশ বছর বয়সী মি. আমিন দিল্লিতে বিবিসিকে বলেন, ‘আমার বাবা-মা এবং অন্যান্য যাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারা যেভাবে নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন সেটা আমি মেনে নিতে পারছি না।’

ভারতের রাজধানী থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর মিয়ানমারে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে বিবিসি। তাদের বেশিরভাগই সে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়া প্রতিরোধ গোষ্ঠী 'বা হটু আর্মি'র (বিএইচএ)-র সঙ্গে রয়েছেন।

বিএইচএ-র এক সদস্যের ফোন থেকে ভিডিও কলে সোয়েদ নূর বলেন, ‘আমরা এখানে নিরাপদ বোধ করছি না। এটা সম্পূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।’

কথাগুলো একটা কাঠের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বলছিলেন তিনি। তার চারপাশে আরও ছয়জন শরণার্থী ছিলেন।

শরণার্থীদের সাক্ষ্য, দিল্লিতে তাদের আত্মীয়দের কাছ থেকে বিবরণ সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযোগের তদন্তকারী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। এতে এটা জানা সম্ভব হয় যে, ওই ব্যক্তিদের (শরণার্থীদের) সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল।

আমরা জানতে পেরেছি, তাদের দিল্লি থেকে আকাশ পথে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে আনার পর নৌবাহিনীর জাহাজে চাপিয়ে দেওয়া হয়। শেষে লাইফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় আন্দামান সাগরে নেমে যেতে বাধ্য করা হয় তাদের। সেখান থেকে তীরে পৌঁছান তারা এবং এখন মিয়ানমারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বিপুল সংখ্যক মুসলিম রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন।

তীরে পৌঁছানোর পরপরই জন নামে শরণার্থীদের দলের এক ব্যক্তি তার ভাইকে ফোনে বলেছিলেন, ‘ওরা আমাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢেকে বন্দিদের মতো (নৌকায় চাপিয়ে) নিয়ে আসে। তারপর ওরা আমাদের সমুদ্রে ফেলে দেয়।’

মি. আমিন প্রশ্ন করেছেন, ‘কীভাবে মানুষকে কেউ সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে?’

‘বিশ্বে মানবতা বেঁচে আছে, কিন্তু ভারত সরকারের মধ্যে আমি কোনো মানবিকতা দেখিনি,’ যোগ করেছেন তিনি।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত থমাস অ্যান্ড্রুজ জানিয়েছেন, এই সমস্ত অভিযোগের স্বপক্ষে ‘উল্লেখযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে, যা তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন হেড-এর সামনে পেশ করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাননি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে বিবিসি। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি।

ক্যাম্পেনাররা প্রায়শই বলে থাকেন, ভারতে রোহিঙ্গাদের অবস্থা অনিশ্চিত। রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকার করে না ভারত বরং ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর আওতায় তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

ভারতে একটা বড় সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাস, তবে বাংলাদেশে এর সংখ্যা সর্বোচ্চ। সেখানে ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করে। এদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অভিযানের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। সে দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এ নিবন্ধিত ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারতে রয়েছে। তবে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ নামক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

গত ছয়ই মে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী ‘ইউএনএইচসিআর’-এর শরণার্থী কার্ডধারী ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের নাম করে সেখানকার স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এটা ভারত সরকারের তরফে একটা বাধ্যতামূলক বার্ষিক প্রক্রিয়া যেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়।

ওই ব্যক্তিরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, এর বেশ কয়েক ঘণ্টা পর তাদের দিল্লির ইন্দ্রলোক ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেই সময় মি. আমিনকে তার ভাই ফোন করে খবর দেন যে, তাকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একজন আইনজীবীর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঘটনা সম্পর্কে ইউএনএইচসিআরকে সতর্ক করার কথাও বলেছিলেন তিনি।

শরণার্থীরা জানিয়েছেন, সাতই মে তাদের দিল্লির ঠিক পূর্বে হিন্ডন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তারা বঙ্গোপসাগরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জগামী বিমানে উঠেছিলেন।

ভিডিও কলে নূর বলেন, ‘বিমান থেকে নামার পর দেখি দু'টো বাস আমাদের নিতে এসেছে।’

তিনি আরও জানান, বাসে ‘ভারতীয় নৌসেনা’ লেখা ছিল। হিন্দিতে ভারতীয় নৌবাহিনী বোঝাতে এটাই ব্যবহার করা হয়।

নূর বলেন, ‘বাসে ওঠা মাত্রই প্লাস্টিকের কিছু একটা দিয়ে ওরা আমাদের হাত বেঁধে ফেলে এবং কালো মসলিন কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে দেয়।’

বাসে উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় না জানালেও তারা মিলিটারি পোশাক পরে ছিলেন এবং হিন্দিতে কথা বলছিলেন।

সংক্ষিপ্ত বাসযাত্রার পরে, ওই দল বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর জাহাজে উঠেছিল।

মি. নূর জানিয়েছেন, হাতের বাঁধন খুলে নেওয়া এবং মুখের ঢাকা সরিয়ে নেওয়ার পরই বিষয়টা বুঝতে পারেন তিনি।

ওই জাহাজকে তারা বড় দু’তলা যুদ্ধজাহাজ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১৫০ মিটার (৪৯০ ফুট)।

ফোনালাপের সময় সোয়েদ নূরের সঙ্গে উপস্থিত মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, ‘(জাহাজে সওয়ার) অনেকের পরনে ছিল টি-শার্ট, কালো রঙের ট্রাউজার আর সেনাবাহিনীর কালো বুট। তবে তাদের সকলের পরনে একই জিনিস ছিল না। কেউ কালো রঙের (পোশাক) পরেছিলেন, কেউ বাদামী রঙের।’

মি. নূর জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর জাহাজে ওই দল ১৪ ঘন্টা ছিল। তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো। সেখানে থাকত ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ভাত, ডাল এবং পনির।

পুরুষদের কেউ কেউ জানিয়েছেন যে জাহাজে থাকাকালীন তারা সহিংসতা ও অপমানের শিকার হয়েছিলেন।

মি. নূরের কথায়, ‘আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। কয়েকজনকে খুব মারধর করা হয়েছে। তাদের একাধিকবার চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে।’

ভিডিও কলে ফইয়াজ উল্লাহ ডান হাতের কব্জির ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে বর্ণনা করেন, কীভাবে তার পিঠে আর মুখে ক্রমাগত ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছিল। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে খোঁচা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি কেন অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলাম? বলেছিল, আপনি এখানে কেন?’

জাতিগত দিক থেকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও গত মে মাসে যে ৪০ জনকে জোর করে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১৫ জনই খ্রিস্টান।

মি. নূর জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে যাত্রাপথে তাদের যারা ডিটেন করেছিলেন, তারা এও বলেছেন যে, ‘আপনি হিন্দুত্ব গ্রহণ করছেন না কেন? কেন ইসলাম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হলেন আপনি? খৎনা হয়েছে কি না দেখার জন্য আমাদের প্যান্ট নামাতে বাধ্য করে।’

আরেকজন শরণার্থী ইমান হুসেন ২২ এপ্রিলের হামলার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, সামরিক কর্মকর্তারা তাকে পহেলগামের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। ভারত শাসিত কাশ্মীরে বন্দুকবাজদের গুলিতে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু পর্যটক ছিলেন।

এই হামলার জন্য ক্রমাগত পাকিস্তানি নাগরিকদের অভিযুক্ত করেছে ভারত সরকার। ইসলামাবাদ যদিও তা অস্বীকার করেছে। বন্দুক হামলার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে বলে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

পরদিন ৫ মে স্থানীয় সময় ১৯:০০ নাগাদ (গ্রিনিচ মান সময় ১২:৩০ মিনিট) শরণার্থীদের নৌবাহিনীর জাহাজের পাশে লাগানো একটা মই বেয়ে নিচে নামতে বলা হয়।

নিচে কালো রাবারের তৈরি চারটে ছোট রেস্কিউ বোট (উদ্ধারকারী নৌকা) দেখতে পেয়েছিলেন তারা।

শরণার্থীদের দু'টো নৌকায় উঠতে বাধ্য করা হয়। প্রতিটা নৌকায় তাদের ২০ জন করে ছিলেন এবং সঙ্গে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিও ছিলেন। অন্য দুই নৌকা তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে বেশ কয়েকজন কর্মী ছিলেন। শরণার্থীরা সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হাত বাঁধা অবস্থায় ভ্রমণ করেন।

‘সেনাসদস্যদের নিয়ন্ত্রিত একটা নৌকা সমুদ্রের তীরে পৌঁছায়। গাছের সঙ্গে লম্বা দড়ি সেই দড়ি নৌকা পর্যন্ত টেনে আনা হয়,’ বলেছেন মি. নূর।

তিনি বলেন, তাদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়, হাতের বাঁধনও খুলে দেওয়া হয় এবং জলে ঝাঁপ দিতে বলা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা দড়ি ধরে ১০০ মিটারেরও বেশি সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছাই।’

মি. নূর জানিয়েছেন, তাদের বলা হয়েছিল যে তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছেন।

এরপর যারা তাদের সেখানে এনেছিলেন, তারা চলে যান।

এই অভিযোগগুলো ভারত সরকার এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে পেশ করেছে বিবিসি কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

গত ৯ মে ভোরে স্থানীয় মৎসজীবীরা রোহিঙ্গাদের ওই দলকে লক্ষ্য করেন এবং জানান যে তারা মিয়ানমারে আছেন। শরণার্থীরা যাতে তাদের আত্মীয়দের খবর দিতে পারেন, তার জন্য নিজেদের ফোন ব্যবহার করতে দেন ওই মৎসজীবীরা।

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের তানিনথারি অঞ্চলে আটকে পড়া শরণার্থীদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে বিএইচএ। কিন্তু মিয়ানমারে তাদের ভাগ্যে কী রয়েছে, সে নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন ভারতে থাকা আত্মীয়রা।

জাতিসংঘ বলছে, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যখন জোর করে আন্দামান সাগরে ঢুকে পড়েছিল, তখনই চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন।’

মি. অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত বিচলিত করাএ ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেছি।’

এই বিষয়ে যে পরিমাণ তথ্য তিনি দিতে পেরেছেন তা যে সীমিত, সে কথা স্বীকার করেছেন। তবে জানিয়েছেন তিনি ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রমাণ করতে পেরেছেন যে এই সঙ্ক্রান্ত রিপোর্টগুলো তথ্য ভিত্তিক।’

এরপর ১৭ মে, মি. আমিন এবং যে শরণার্থীদের স্বজনদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরিবারের ওই সদ্যসদের দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা, অবিলম্বে এই জাতীয় ডিপোর্টেশন বন্ধ করা এবং ওই ৪০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আর্জি জানান আদালতে।

আবেদনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কলিন গনজালভেস। তিনি বলেন, ‘যে ভয়ঙ্করভাবে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে দেশ জানতে পেরেছে।’

গনজালভেস বলেন, ‘মানুষ স্বাভাবিকভাবে বিশ্বাসই করতে পারে না যে, লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে এইভাবে একজনকে যুদ্ধক্ষেত্রে সমুদ্রে যা অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো, সেখানে ফেলে দেওয়া যায়।’

আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের একজন বিচারপতি এই অভিযোগকে ‘কল্পনাপ্রসূত ধারণা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশন তাদের দাবির স্বপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি।

রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না কি তারা অবৈধ অভিবাসী হিসাবে তাদের ডিপোর্ট করা হবে- এই নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারতে বসবাস করছে। কিন্তু এই ৪০ জনকে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন এত চেষ্টা চালানো হয়েছিল, সেই বিষয়টা এখনো স্পষ্ট নয়।

কলিন গনজালভেস বলেন, ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই বিষোদগার করা ছাড়া এর পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা ভারতের কেউই বুঝতে পারছে না।’

এমন আচরণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গাদের অনেকে দাবি করেছেন, গত এক বছরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফে তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টা বেড়েছে। তবে এটা নিশ্চিত করার জন্য কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই।

এদের মধ্যে অনেকে আত্মগোপন করেছেন। মি. আমিনের মতো অনেকেই ঘরে ঘুমান না। তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।

মি. আমিন বলেন, ‘আমার মনে শুধু এই ভয়টাই কাজ করছে যে, ভারত সরকার আমাদেরও নিয়ে যাবে আর যে কোনো সময় সমুদ্রে ফেলে দেবে। এখন আমরা ঘর থেকে বেরোতেও ভয় পাচ্ছি।’

রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে মি. অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘এরা সেই সব মানুষ যাদের মনে হয়েছে বলেই ভারতে চলে এসেছেন, এমনটা নয়। এরা সেই মানুষ যারা মিয়ানমারে ভয়াবহ সহিংসতার কারণে এখানে এসেছেন। আক্ষরিক অর্থেই নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পালিয়েছেন।’

এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ভারত রোহিঙ্গা শরণার্থী

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর