গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৬৫ ফিলিস্তিনি নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৭
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলকার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় একদিনে কমপক্ষে ৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ হামলায় নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বুধবার ভোর থেকে হামলায় কমপক্ষে ৬৫ জন নিহত হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলীয় জেইতুন এলাকায় অবস্থিত আল-ফালাহ স্কুলে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি সেনারা। স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র আটটি নৌযানে হস্তক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে ওই নৌযানগুলোতে ঢুকে তাদের আটক করে ইসরায়েলি সেনারা। খবর আল জাজিরা’র।
আটক ব্যক্তিদের ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ‘ইয়ম কিপুর’ উপলক্ষে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখনই তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক হওয়া আটটি নৌযান হলো- দেইর ইয়াসিন, হিউগা, স্পেক্টার, আদারা, আলমা, সিরিয়াস, আরোরা ও গ্রান্ডি ব্লু।
এ নৌবহরের ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে ইসরায়েল। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌযান নিরাপদভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর আরোহীদের ইসরায়েলের একটি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেটা ও তার বন্ধুরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি গাজা অবরোধ করে উপত্যকাটিতে তীব্র খাদ্যসংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে অনাহার-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে গাজার বাসিন্দাদের।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এ নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এ বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।
এমবি

