গাজামুখী নৌযান থেকে ২০০ অধিকারকর্মী আটক করেছে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৩
ফিলিস্তিনের গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে থাকা ১৩টি নৌযান আটকে দিয়েছে দখলকার ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় বহরে থাকা ৩৭টি দেশের দুই শতাধিক অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র মুখপাত্র সাইফ আবুকেশেক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, আটকের সময় ১৩টি নৌযানে মোট ২০১ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে স্পেনের ৩০ জন, ইতালির ২২ জন, তুরস্কের ২১ জন এবং মালয়েশিয়ার ১২ জন রয়েছেন।
সাইফ আরও জানান, আটকের পরও অভিযান চলমান রয়েছে। বহরের নৌযানগুলো বাধা সত্ত্বেও গাজা অভিমুখে ভূমধ্যসাগরে ভেসে চলেছে।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমাদের প্রায় ৩০টি নৌযান এখনও ইসরায়েলি সামরিক জাহাজ থেকে দূরে সরে গিয়ে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও অনুপ্রাণিত এবং ভোরের মধ্যে অবরোধ ভেঙে একসঙ্গে পৌঁছানোর জন্য সবকিছু করছে।
গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত ফ্লোটিলাকে বুধবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী বাধা দিয়েছে। অন্তত ৮টি নৌকা থামানো হয়েছে- দেইর ইয়াসিন, হিউগা, স্পেক্টার, আদারা, আলমা, সিরিয়াস, আরোরা ও গ্রান্ডি ব্লু। তবে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মোট ১৩টি নৌযানকে থামানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি গাজা অবরোধ করে উপত্যকাটিতে তীব্র খাদ্যসংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে অনাহার-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে গাজার বাসিন্দাদের।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এ নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এ বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।
এমবি

