Logo

আন্তর্জাতিক

লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি ফ্লোটিলা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৫

লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি ফ্লোটিলা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আরোপিত দীর্ঘমেয়াদি নৌ-অবরোধ ভেঙে ত্রাণ পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীদের নিয়ে গঠিত ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রায় ৪৪টি নৌযানে ৫০০–এর বেশি অধিকারকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও পরিবেশবিদ গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের প্রায় সব জাহাজ আটক করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ত্রাণবাহী বহরটির এই উদ্যোগ ছিল একদিকে প্রতীকী সহায়তা, অন্যদিকে ১৮ বছরের ইসরায়েলি অবরোধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। বহরে ছিলেন সুইডেনের পরিবেশবাদী গ্রেটা থুনবার্গ, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলা, বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমসহ বহু আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। সাগরপথে গাজা পৌঁছানোর এই দুঃসাহসিক ও মানবিক প্রয়াস বিশ্বজুড়ে সহানুভূতি ও সংহতি সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে নতুন করে সামনে এনেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও অবরোধের অভিযোগ।

বুধবার রাতে দখলদার বাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা এসব জাহাজ আটক করা শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার যাত্রা গাজায় পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে গেছে। ইসরায়েলের দাবি, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একটি ছাড়া বাকি সব জাহাজ আটক করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ কিংবা আইনসম্মত নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব যাত্রী নিরাপদে ও সুস্থ আছেন। তাদের ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আরেকটি জাহাজ এখনো সমুদ্রে অবস্থান করছে। এটি যদি গাজার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে এটিকেও আটক করা হবে।

অন্যদিকে ফ্লোটিলার আয়োজকরা দাবি করেছেন, একটি জাহাজ গাজার জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে ইসরায়েল বলছে, লাইভ ট্র্যাকার ত্রুটির কারণে সেটি গাজার জলসীমায় দেখা গেলেও বাস্তবে যায়নি। এই বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স আয়োজকদের বরাতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি নৌ কমান্ডোরা এখন পর্যন্ত ৩৯টি জাহাজ আটক করেছে। ফ্লোটিলার মোট নৌযান ছিল ৪৪টি। আটক করা নৌযানগুলো ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে আটক ব্যক্তিদের প্রক্রিয়া শেষে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, বহরে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ছোট নৌবহর যদি ৬০ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিতে পারে তবে আধুনিক যুদ্ধজাহাজগুলো কেন অবরোধ ভাঙতে পারবে না? তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘রাষ্ট্রগুলো কি তাদের নৌবাহিনী দিয়ে এই অবরোধ শেষ করতে পারে না?’

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ফ্লোটিলা থেকে একটি ভিডিও বার্তায় জানান, তারা ঝড়ের ভেতর দিয়েও যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কোনো হামলায় পিছু হটবেন না।

এদিকে আটক মানবাধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ঢাকার শাহবাগে ‘সলিডারিটি উইথ প্যালেস্টাইন’ ব্যানারে সমাবেশ করেছে ‘কমিউনিটি ফর ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস’। সমাবেশে মানবাধিকারকর্মী, লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দুই রাষ্ট্র সমাধান নয়, বরং পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিকেপি/এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ফিলিস্তিন ইসরায়েল যুদ্ধ ফিলিস্তিন ইসরায়েল

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন