Logo

আন্তর্জাতিক

গাজার বাস্তুচ্যুতদের দুর্দশা চরমে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৩

গাজার বাস্তুচ্যুতদের দুর্দশা চরমে

আবর্জনার স্তূপ ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে গাজার তাবুতে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুতরা। বিষাক্ত বাতাস, দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রবে পানিবাহিত নানা রোগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত লোকবল ও যন্ত্রপাতি নিয়ে বিপুল সংখ্যক ময়লা অপসারণে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির পরও গাজার কয়েকটি ডাম্পিং পয়েন্টে প্রবেশাধিকার মিলছে না ফিলিস্তিনিদের। এভাবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বিভিন্ন অংশে জমে থাকা পানি ও ময়লার স্তূপ থেকে জন্ম নিচ্ছে মাছি ও মশা। দুই বছর ধরে টানা ইসরেইলি বোমাবর্ষণের ফলে উপত্যকাটির বিভিন্ন অংশে পড়ে থাকা ছেঁড়া জামাকাপড় ও প্লাস্টিক, চারপাশের বাতাসকে করে তুলেছে বিষাক্ত। এছাড়া, পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে পয়ঃনিষ্কাশন কার্যক্রম। বর্জ্যের বিপুল স্তূপের কারণে তা অপসারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও, ইসরাইলি বাহিনী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ডাম্পিং স্টেশনগুলোতে প্রবেশে বাঁধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের সময় অনেক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকেও হত্যা করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সবকিছু মিলিয়ে ধীরগতিতে চলছে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। যার খেসারত দিচ্ছে ভিটেমাটি হারিয়ে তাবুতে ঠাই নেয়া বাস্তুচ্যুত মানুষেরা। দুর্গন্ধ আর পানিবাহিত নানা রোগে মানবেতর দিন কাটছে তাদের।  স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ঘুমাতে পারি না। বাচ্চারা সকালে ঘুম থেকে উঠে কাশি দেয়। 

শ্বাসকষ্ট অনুভব করে। প্রতিদিনই পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য জ্বর, টাইফয়েড ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই সপ্তাহে বাচ্চাকে পাঁচবার হাসপাতালে নিয়ে গেছি। ডাক্তার বলেছে, আবর্জনা থেকে ছড়ানো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে এ রোগ ছড়িয়েছে। আবর্জনার কারণে দিনরাত পোকামাকড় ছড়াচ্ছে। শিশুরা প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে এখানে আছি। জমে থাকা আবর্জনার কারণে গাজার হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা জানান, বেশিরভাগ তাবু ময়লা-আবর্জনার পাশে হওয়ায় চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া সবসময় মশা-মাছির উপস্থিতির কারণে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগও চারপাশে ছড়াচ্ছে। যার একটি ইমপেটিগো।। এদিকে গাজার বর্জ্য অপসারণ ও ধ্বংসস্তূপ সরাতে আরও উন্নতি প্রযুক্তি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি। যুদ্ধের আগে গাজার বর্জ্য অপসারণের জন্য ইসরাইলি সীমান্তে তিনটি ডাম্পিং স্টেশন ছিলো। 

কিন্তু এগুলোতে বর্তমানে কোনো প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না ফিলিস্তিনিরা । ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফার সুড়ঙ্গে আটকে থাকা যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গত মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর রাফার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন তারা। 

এই যোদ্ধারা যেখানে আছেন সেসব স্থান এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির জানিয়েছিলেন, হামাস যদি গোল্ডিনের মরদেহ ফেরত দেয় তাহলে রাফাতে আটকে থাকা হামাস যোদ্ধাদের নিরাপদ প্রস্থান দেবেন তারা। তবে এর আগে এসব হামাস যোদ্ধাকে ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ এবং অস্ত্র জমা দিতে হবে। এরপর ইসরায়েল তাদের কথিত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করবে। এই শর্তের জেরে হামাসের সামরিক শাখা ইজ আল-দ্বীন আল-কাশেম ব্রিগেড গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না। আত্মসমর্পণ শব্দ তাদের অভিধানে নেই। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে হামাসের এসব যোদ্ধার সঙ্গে যদি ইসরায়েলি সেনাদের কোনো ধরনের সংঘর্ষ হয় তাহলে এর দায় দখলদারদের নিতে হবে।

বিকেপি/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

গাজা শহর ফিলিস্তিন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর