গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ট্রাম্পের, ইউরোপে তীব্র প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ইউরোপজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশসহ কানাডা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের কাছে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় সহায়ক। হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এবং তার দল বিভিন্ন বিকল্প আলোচনা করছে, যার মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে এককভাবে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের নেতারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেনের সঙ্গে মিলিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিষয়গুলো নির্ধারণের অধিকার কেবল তাদেরই।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তারা আগামী মাসে গ্রিনল্যান্ডে ইনুইট বংশোদ্ভূত গভর্নর জেনারেল মেরি সিমন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনার্দকে পাঠাচ্ছেন। নর্ডিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরও জানিয়েছেন, তারা আর্কটিক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শে আরও উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে চীনা যুদ্ধজাহাজ বা বিনিয়োগ বিস্তৃত বলে আমাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমরা স্বাগত জানাই যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ।’
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নীলসেন ইউরোপীয় নেতাদের সংহতি প্রকাশকে স্বাগত জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সম্মানজনক সংলাপ’ চেয়েছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও ইউরোপ-আমেরিকা কূটনৈতিক টান আরও দৃঢ়ভাবে উঠে এসেছে।
সূত্র : আলজাজিরা

