ট্রাম্পকে খুশি করতে বিক্ষোভকারীরা সহিংসতা চালাচ্ছে : খামেনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৮
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই বিক্ষোভকারীরা দেশে সহিংসতা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই বিক্ষোভকারীরা দেশে সহিংসতা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করা। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান এ বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশক কার্যক্রম ও ব্যাপক ভাঙচুরে’ রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, হুমকি, উসকানি, অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘বড় বিপদে’ রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে এ বিক্ষোভ। টানা ১৩ দিন ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। এর মাঝে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসবের জেরে কেউ কেউ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও তুলেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ থেকে ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। দেশজুড়ে এখনো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন বলছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
খামেনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং ‘ধ্বংসাত্মক উপাদান’ কঠোরভাবে দমন করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান বড় বিপদে আছে। বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। যদিও সরাসরি সেনা পাঠানোর কথা বলেননি তিরি।
এমবি

