ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের মেডেল দিলেন ‘উপহার’ মাচাদো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৮
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল তুলে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে এই প্রতীকী উপহার দেন তিনি। পরে ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ‘মারিয়া তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল আমাকে দিয়েছেন— আমি যে কাজগুলো করেছি তার স্বীকৃতিস্বরূপ। এটি পারস্পরিক সম্মানের এক দারুণ উদাহরণ।’ হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই মেডেল নিজের কাছেই রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তবে নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউট স্পষ্ট করেছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তর, ভাগ বা প্রত্যাহার করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ পুরস্কারের মালিকানা মাচাদোর কাছেই থাকছে; ট্রাম্পের কাছে মেডেল দেওয়া ছিল পুরোপুরি প্রতীকী উদ্যোগ।
হোয়াইট হাউস বৈঠককে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেছেন মাচাদো। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতার পক্ষে ট্রাম্পের যে ভূমিকা, তার স্বীকৃতি হিসেবেই এই মেডেল উপহার দেওয়া হয়েছে। বৈঠকটি ছিল ট্রাম্প ও মাচাদোর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
এই সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে হলো, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন— স্বল্পমেয়াদে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অভ্যন্তরীণ সমর্থন মাচাদোর নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
বৈঠকের পর মাচাদো ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট— উভয় দলের একাধিক সিনেটরের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, মাচাদো সতর্ক করে দিয়েছেন— আগামী কয়েক মাসে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর বা নির্বাচন নিয়ে বাস্তব অগ্রগতি না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক নির্বাচন সমর্থন করেন, তবে ‘সঠিক সময়’ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, মাচাদো একজন সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হলেও এই বৈঠকের ফলে ট্রাম্পের মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
উল্লেখ্য, গত মাসে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধীদের জয়ের ব্যাপক দাবি থাকলেও ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন মাদুরো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নজর মূলত ভেনেজুয়েলার তেল খাত ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিকে।
এমএইচএস

