গ্রিনল্যান্ড দখল ও শুল্ক যুদ্ধের হুমকি থেকে সরলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪
ড্যানিশ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে অবশেষে পিছু হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (২১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে ন্যাটো (NATO) প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই ঘোষণা দেন। খবর- আলজাজিরা।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থানে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনা প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ড এবং উত্তর মেরু (আর্কটিক) অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা’ তৈরিতে একমত হওয়ার পর তিনি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই সমাধান যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর হবে।’
এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিলেও দাভোসে বিশ্ব নেতাদের সামনে তিনি সরাসরি বলেন, ‘মানুষ ভেবেছিল আমি শক্তি প্রয়োগ করব। কিন্তু আমি তা করতে চাই না এবং করবও না।’ তবে তিনি এখনও মনে করেন, খনিজ সমৃদ্ধ এই বিশাল দ্বীপটি উত্তর আমেরিকার অংশ এবং কৌশলগত নিরাপত্তার খাতিরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দিনটি অন্তত স্বস্তিতে শেষ হলো যে, আমেরিকা সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ পরিহার করেছে এবং বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি থামিয়েছে।’ তবে তিনি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে আসছিলেন যে ডেনমার্ক যদি গ্রিনল্যান্ড বিক্রি না করে তবে ডেনমার্কসহ ইউরোপের সাতটি দেশের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ এবং জুন থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।
সুইডেনসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ট্রাম্পের এই শুভবুদ্ধির উদয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, মিত্র দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প তার ব্ল্যাকমেইল করার নীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
এমএইচএস

