ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যদি তার বিরুদ্ধে হত্যার কোনো ধরনের চেষ্টা চালায়, তাহলে দেশটিকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির বিষয়ে তিনি আগে থেকেই কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘ওদের এটা করা উচিত নয়। কিন্তু আমি আগেই পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছি-আমার কিছু হলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে।’ ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতেও এ ধরনের হুমকি দেওয়া হলেও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ বিষয়ে যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখাননি।
তিনি বলেন, ‘জো বাইডেনের তখনই শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত ছিল। কেউ যদি এমন হুমকি দেয়- সে প্রেসিডেন্ট হোক বা সাধারণ মানুষ-আমি হলে ওদের এমন জবাব দিতাম যে তারা বুঝে যেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে খুব স্পষ্ট নির্দেশনা আছে- আমার সঙ্গে কিছু হলে ওদের পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে।’
এদিকে ইরানে চলমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও চরম উত্তপ্ত। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জেরে গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এসব আন্দোলন দমন করতে গিয়ে বড় ধরনের সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, চলমান অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২৬ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার ৮০০ জন। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ এসব বিক্ষোভকে সশস্ত্র দাঙ্গা হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ করেছে।
এর আগে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলার হুমকি দিলেও পরে তেহরান সরকার নির্ধারিত শত শত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ট্রাম্প ইরানের প্রশংসা করেছিলেন।
এএস/

