চীনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩
৭৫ বছর বয়সী ঝাং ইউশিয়া, চীনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার জেনারেল
চীনের ক্ষমতাধর সামরিক কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ফের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। দেশটির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউশিয়া ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এক দশকের বেশি সময়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপকে সামরিক বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযানের আরও একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির শক্তিশালী সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান এবং আরেকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। চীনে এই শব্দগুচ্ছটি সাধারণত দুর্নীতির অভিযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সিএমসির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউশিয়া এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের সন্দেহ রয়েছে।
৭৫ বছর বয়সী ঝাং ইউশিয়া বর্তমানে চীনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদাসম্পন্ন জেনারেল এবং সিএমসির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী ২৪ সদস্যের নির্বাহী সংস্থা পলিটব্যুরোরও সদস্য।
ঝাং ইউশিয়া সিএমসির ভাইস চেয়ারম্যান পদটি ভাগ করে নিয়েছেন আরেক জেনারেল ঝাং শেংমিনের সঙ্গে। ঝাং শেংমিন বেইজিংয়ের অত্যন্ত গোপনীয় রকেট ফোর্সের একজন জেনারেল, তবে ঝাং ইউশিয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
গত অক্টোবরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আগের ভাইস চেয়ারম্যানকে বহিষ্কারের পর ঝাং শেংমিনকে এই পদে উন্নীত করা হয়। দুই ভাইস চেয়ারম্যানই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনে কাজ করেন। শি ২০১২ সাল থেকে সিএমসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে ৬১ বছর বয়সী লিউ ঝেনলি সিএমসির যৌথ স্টাফ বিভাগের প্রধান, যা সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ ও অপারেশন পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছে।
এই সপ্তাহে ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে তদন্তের গুঞ্জন ছড়ায়, যখন তারা শি জিনপিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে সিএমসির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং শেংমিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্নীতিকে কমিউনিস্ট পার্টির জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী লড়াই এখনো গুরুতর ও জটিল।’
সমর্থকদের মতে, এই নীতি পরিষ্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করে; তবে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিতেও এটি শির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর আগে, গত অক্টোবরে চীন ঘোষণা দেয়, তারা নয়জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে। এসব তদন্তের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দুই শীর্ষ জেনারেলকে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তারা হলেন- সিএমসির সাবেক দ্বিতীয় ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েইদং এবং সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক কাজ বিভাগের সাবেক প্রধান মিয়াও হুয়া।
২০২৪ সালে চীনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুকেও কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘুষসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে আগেই পদচ্যুত করা হয়েছিল। একইভাবে তার পূর্বসূরি ওয়েই ফেংহেকেও দুর্নীতির অভিযোগে পার্টি থেকে বহিষ্কার করে প্রসিকিউটরদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এবার দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বও সরাসরি তদন্তের আওতায় এলো, যা বেইজিংয়ের ক্ষমতার ভেতরের টানাপোড়েন ও শাসন কাঠামোর কঠোর নিয়ন্ত্রণকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

