Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানের প্রভাব থেকে ইরাককে দূরে থাকার আহ্বান রুবিওর

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:০২

ইরানের প্রভাব থেকে ইরাককে দূরে থাকার আহ্বান রুবিওর

ছবি: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত রোববার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল–সুদানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি ইরাককে ইরানের প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, রুবিও বলেন, ইরাক মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার মাপকাঠিতে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তবে ইরানের প্রভাবে পরিচালিত কোনো সরকার ইরাকের স্বার্থ উপেক্ষা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফোনালাপে রুবিও ইরাক সরকারের উদ্যোগে দ্রুত বন্দি হস্তান্তর ও আটক প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। প্রথম ধাপে সিরিয়ার হাশাকা থেকে ১৫০ বন্দিকে নিরাপদভাবে ইরাকি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রায় সাত হাজার বন্দি স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

সম্প্রতি ইরাকে অনুষ্ঠিত এক সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে নুরি আল–মালিকি আবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আল–মালিকির রাজনৈতিক ইতিহাস জটিল বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ে এবং দেশ ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর উত্থান ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মুখোমুখি হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপসাগরের দিকে একটি অস্ত্রবাহী নৌবহর যাচ্ছে, যা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।

বিক্ষোভের উস্কানিদাতাদের কোনো ছাড় নয় : ইরান

ইরানে সাম্প্রতিক ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সন্ত্রাস, সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে যারা উস্কানি দিয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই।

রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জনগণ দাবি করছে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যারা দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছে, তাদের দ্রুত বিচার করা হোক এবং দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি দেওয়া হোক। জনগণের এই দাবির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল বলেও জানান তিনি।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ব্যাপক দমন–পীড়নের মাধ্যমে সরকার বর্তমানে বিক্ষোভ–উত্তেজনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে তিন হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।

‘খামেনি বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল সাইদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ।

সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে খামেনিকে নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও তিনি নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

কনসাল জেনারেল আরও বলেন, ইরান কোনো বিদেশি শক্তিকে ভয় পায় না। যে কোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর