‘আর্থিক ধসের’ মুখে জাতিসংঘ, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে চাঁদা পরিশোধের আহ্বান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৪
জাতিসংঘ ‘আর্থিক ধসের’ মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে চরম সতর্কতা সংকেত দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বকেয়া বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ না করা এবং ক্রমবর্ধমান অন্যান্য সমস্যার কারণে বিশ্ব সংস্থাটি এই ঘোর সংকটে পড়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে গুতেরেস জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের সব অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত বকেয়া চাঁদা পরিশোধের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘের বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থাকে সংস্কারের ইঙ্গিত দেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘চাঁদা পরিশোধের বিষয়টি এখন “হয় এখন, নয়তো কখনোই নয়” এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ নেই।’ মহাসচিব প্রতি বছর সতর্ক করলেও এবার পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর বলে জানান তিনি।
গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশকে দায়ী না করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অসহযোগিতা এই সংকটকে প্রকট করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন। এর বদলে তিনি ‘বোর্ড অব পিস’ নামে নতুন একটি সংস্থা চালু করেছেন, যা প্রথমে গাজা পুনর্গঠন এবং পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতিতে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের এই নতুন বোর্ডটি একটি ‘পে-টু-প্লে’ বা প্রিমিয়াম ক্লাবের মতো মনে হচ্ছে। ট্রাম্পকে বিপুল অর্থ দেওয়ার বদলে সরকারগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক আইন ও জবাবদিহিতা রক্ষায় জাতিসংঘকে সুরক্ষায় কাজ করা।
জাতিসংঘের মূল বাজেটের ২২ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং ২০ শতাংশ দেয় চীন। গুতেরেস জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বকেয়া চাঁদার পরিমাণ রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে কোন দেশগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে চাঁদা দিচ্ছে না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এমএইচএস

