Logo

আন্তর্জাতিক

প্রথমবার গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৭

প্রথমবার গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করেছে, তা মোটামুটি সঠিক বলেই তারা মনে করছে।

ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এই হিসাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গাজা যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা নিয়ে এটিই ইসরায়েলের প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। এর আগে ইসরায়েল সরকার ও সেনাবাহিনী কেবল কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, সে সংক্রান্ত তথ্যই প্রকাশ করত।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৭১ হাজার ৬৬০ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের সবাই মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও দেশটির গণমাধ্যম ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানকে ‘হামাসের প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ এই অবস্থান পরিবর্তন ইসরায়েলের গাজা অভিযান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জাতিসংঘের একটি কমিশন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকেরা এরই মধ্যে অভিযোগ করেছেন, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ প্রশ্ন তুলেছে, এত দিন যেসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, সেগুলোর কতটা সত্য প্রমাণিত হতে পারে।

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তারা গাজায় ২২ হাজার যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। সেই হিসাব ধরলে, নিজেদের তথ্য অনুযায়ীই নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বেসামরিক মানুষ। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি গোপন ডেটাবেইস অনুযায়ী বেসামরিক নিহতের হার ছিল ৮৩ শতাংশ, যা প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আগে দেওয়া ৫০ শতাংশ দাবির চেয়েও অনেক বেশি।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক, তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া মোট মৃত্যুর হিসাবকে ‘বৃহৎভাবে সঠিক’ বলেই মনে করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যদিও এক সামরিক মুখপাত্র এই সংখ্যা নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত তথ্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ডেটার প্রতিফলন নয়।

ফিলিস্তিনি ডেটাবেইসে নিহতদের যোদ্ধা ও বেসামরিক হিসেবে আলাদা করে দেখানো না হলেও অধিকাংশ নিহতের নাম, জন্মতারিখ এবং ইসরায়েলি পরিচয় নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অতীতে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল ও জাতিসংঘ স্বীকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ফিলিস্তিনি তথ্যের কাছাকাছিই ছিল।

তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এই স্বীকারোক্তি নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ বড় সংবাদমাধ্যম শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। হারেৎজ ছাড়া আর কেউ প্রথমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ইয়েদিওথ আহরোনোথ কেবল যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে একটি প্রতিবেদনে এই সংখ্যার উল্লেখ করেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ফিলিস্তিন ইসরায়েল যুদ্ধ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর