Logo

আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান জাবেজকে গুলি করার ব্যাখ্যা দিল পুলিশ

Icon

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান জাবেজকে গুলি করার ব্যাখ্যা দিল পুলিশ

নিউইয়র্কের কুইন্সে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাবেজ চক্রবর্তী।

নিউইয়র্কের কুইন্সে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাবেজ চক্রবর্তী পুলিশ কর্মকর্তাদের পিছু পিছু ধাওয়া করছিলেন। হাতে ছুরি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে নিউইয়র্ক পুলিশ এসব কথা জানিয়েছে।

সোমবারের ওই ঘটনার বর্ণনা আসে একদিন পর যখন জাবেজ চক্রবর্তীর পরিবার পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে।

২২ বছর বয়সী জাবেজ চক্রবর্তীর পরিবার জানায়, তারা ৯১১–এ ফোন করেছিল কারণ তিনি পারিবারিক বাসভবন ব্রায়ারউডের দেয়ালে কাচ ছুঁড়ছিলেন। তবে তারা বলেন, পুলিশও সেখানে আসবে এটা তারা আশা করেননি।

দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং (ড্রাম)-এর মাধ্যমে অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিবার জানায়, ‘আমরা আমাদের ছেলের জন্য অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলাম, কারণ সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। আমরা পুলিশ ডাকিনি।’

নিউইয়র্ক পুলিশ জানায়, ৯১১-এ কলের সময় পরিবারকে বলা হয়েছিল যে অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি পুলিশও পাঠানো হবে। পুলিশ পৌঁছালে তারা বাসায় ঢোকার অনুমতি চাইলে পরিবার তা দিয়েছিল।

পুলিশের দাবি, চক্রবর্তী বড় একটি রান্নাঘরের ছুরি তুলে নিয়ে তাদের হুমকি দিতে শুরু করলে কর্মকর্তারা অস্ত্র ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে করতে এবং পিছু হটতে হটতে কর্মকর্তারা দেখেন, চক্রবর্তী ছুরি হাতে নিয়ে তাদের ধাওয়া করছেন। অস্ত্র ফেলতে বললেও তিনি তা মানেননি।

নিউইয়র্ক পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে একটি দরজাও বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি তা খুলে আবার এগিয়ে আসেন।

পরিবার আরও অভিযোগ করে, পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। তারা কোন দেশের নাগরিক তা জানতে চেয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য, ‘আমাদের ছেলে যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে মেঝেতে পড়ে ছিল, তখন নিউইয়র্ক পুলিশ আইসের মতো আচরণ করে আমাদের জেরা করছিল যে আমরা কোন দেশের মানুষ।’

নিউইয়র্ক পুলিশ জানায়, ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কুইন্স জেলা অ্যাটর্নির প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে ফোন সংগ্রহ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

মুখপাত্র বলেন, একাধিক পরিবারের সদস্য স্বেচ্ছায় সম্মতি দিয়ে তাদের ফোন দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বডি ক্যামেরার বহু ঘণ্টার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ কোনো অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশ্ন করার প্রমাণ পায়নি।

পরিবারের অভিযোগ ছিল পুলিশ চিকিৎসা সহায়তা দেয়নি। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বলছে, কর্মকর্তারা জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং টুর্নিকেট ব্যবহারসহ সব ধরনের চেষ্টা করেছেন।

ঘটনার পর মেয়র মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ‘প্রথম সাড়া দানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ এ নিয়ে পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে যারা প্রায় আমাদের ছেলেকে মেরে ফেলেছে, মেয়র কেন তাদের প্রশংসা করছেন?’

কুইন্স জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তার নজরদারিতে আছেন। তার পরিবার জেলা অ্যাটর্নির কাছে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

কৌশলী ইমা/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

যুক্তরাষ্ট্র

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর