পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৬
অবৈধ অর্থপ্রবাহ (ইলিসিট ফাইন্যান্সিয়াল ফ্লোজ) নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ উৎস দেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটি জোর দিয়ে বলেছে, চুরি হওয়া এসব সম্পদ ফেরত আনা উন্নয়ন ও জনকল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের (ইকোসক) আর্থিক সততা বিষয়ক এক বিশেষ বৈঠকে এই আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে জনজীবনে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি মানুষের প্রত্যাশাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। জনগণ এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং সুশাসনের দাবি জানাচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত চৌধুরী তার বক্তব্যে তথাকথিত ‘মেগা প্রকল্প’গুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রকল্প প্রায়ই সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত সুফল বয়ে আনে। বরং অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রকল্প দুর্নীতির বড় সুযোগ সৃষ্টি করে এবং এর মাধ্যমে আত্মসাৎ করা জনসম্পদ বিদেশের ‘নিরাপদ আশ্রয়ে’ পাচারের পথ সুগম করে।
পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধীরগতি ও খণ্ডিত পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ‘চুরি হওয়া সম্পদ তাদের বৈধ মালিকদের বা উৎস দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ন্যায্য প্রাপ্যতা, অধিক স্বচ্ছতা এবং কার্যকর অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।’
‘ফিন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঐতিহাসিক ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে শুধু কাগজে কলমে রাখলে চলবে না, একে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুনরুদ্ধার করা অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সরাসরি জনগণের কল্যাণে আসবে।
এমএইচএস

