Logo

আন্তর্জাতিক

সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৭

সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ইরানের তেহরানের একটি রাস্তায় মার্কিন-বিরোধী দেয়ালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন নারীরা, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ছবি : মাজিদ আসগরিপুর/ওয়ানা, রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র উত্তেজনা এবং সরাসরি সামরিক সংঘাতের প্রবল শঙ্কার মধ্যেই অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসি এবং আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির গতিপথ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার প্রায় মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরী ও বিমানবাহী ক্যারিয়ারের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং পাল্টা হিসেবে ইরানের কঠোর হুশিয়ারিতে পরিস্থিতি এখন সরাসরি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ওমানের মধ্যস্থতায় তড়িঘড়ি করে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো— উত্তেজনা প্রশমন (de-escalation) এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়ানো। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটন— উভয় পক্ষই জানিয়েছে, তারা তাদের কৌশলগত অবস্থান থেকে খুব সহজে সরে আসবে না।

আলোচনার ঠিক আগ মুহূর্তে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ ম্যার্জ সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধি বা ‘এসকেলেশন’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিবিসি ও আল জাজিরা উভয় মাধ্যমই তার এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। বার্লিনে এক বিবৃতিতে ম্যার্জ বলেন, ‘আমরা আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। আলোচনার টেবিলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা মাঠ পর্যায়ে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত করতে পারে।’

ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আলোচনার প্রস্তুতি চললেও মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা কমেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি বা ‘আর্মাডা’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের হামলা হলে তারা কঠোর জবাব দেবেন।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ, যেখানে ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এর সঙ্গে গাজা, লেবানন এবং ইয়েমেনের সংঘাতও জড়িত। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর মার্কিন চাপ এবং বিপরীতে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার হুমকি—সব মিলিয়ে এক জটিল সমীকরণের মধ্যে ওমানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওমান এই আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি (face-to-face) কথা বলবেন, নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করবেন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

বিশ্বের নজর এখন মাস্কাটের দিকে— এই আলোচনা কি পারবে যুদ্ধের দামামা থামাতে, নাকি পরিস্থিতি মোড় নেবে আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে?

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইরান যুক্তরাষ্ট্র

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর