Logo

আন্তর্জাতিক

কানাডায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পেতে লাগে চিকিৎসকের অনুমোদন

Icon

লায়লা নুসরাত, কানাডা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬

কানাডায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পেতে লাগে চিকিৎসকের অনুমোদন

কানাডায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পেতে এখনো চিকিৎসকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। নতুন প্রজন্মের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া এগুলো পাওয়া যায় না। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এটি কি নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নাকি অকারণ বাধা?

কানাডায় নারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হলো ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল। অথচ এগুলো শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই সংগ্রহ করতে হয়। বিস্ময়কর তথ্য হলো— পশ্চিম ইউরোপ, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা বাদ দিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়। এমনকি সৌদি আরব, তুরস্ক বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতেও এসব বড়ি ফার্মেসিতে সহজলভ্য। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ২০২৩ সাল থেকে চিকিৎসকের পরামর্শপত্র ছাড়াই জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পাওয়া যাচ্ছে।

১৯৬০ সাল থেকে প্রচলিত অধিকাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি হলো মূলত ‘কম্বাইন্ড পিল’, যাতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন হরমোন থাকে। এগুলো ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণে বাধা দেয়। এই বড়িগুলোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন— পেট ফাঁপা ও মাথাব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া রক্ত জমাট বাঁধা ও সার্ভিক্যাল ক্যানসারের মতো কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, এসব ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের পক্ষে মত দেন। তবে প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক রাখার ফলে কানাডার আগে থেকেই চাপগ্রস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

কানাডায় বর্তমানে পারিবারিক চিকিৎসকের সংকট এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার বিড়ম্বনা রয়েছে। এই বাস্তবতায় কেবল একটি নিয়মিত ও নিরাপদ ওষুধের জন্য ডাক্তারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক রাখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

ইতোমধ্যে দেশটির কিছু প্রদেশে বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সুবিধা চালুর ফলে আইইউডি ও ইমপ্লান্টের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়া পিল পাওয়ার বিষয়ে এখনো বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তন আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই কানাডায় এখনো চিকিৎসকের অনুমোদনের নিয়মটি বহাল রয়েছে।

এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

কানাডা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর