নিউইয়র্কে দুর্যোগ তহবিল জালিয়াতি মামলায় ৮ বাংলাদেশির দোষ স্বীকার
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৮
কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দুর্যোগ সহায়তা তহবিল থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের দায়ে ৯ জন অভিযুক্ত আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। এদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক। জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেটের ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং-এর দপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুন মাস থেকে অভিযুক্তরা নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ভুয়া ব্যবসার নামে একাধিক আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা বেতন, দোকান ভাড়া, মর্টগেজ এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখান। কিন্তু অনুদানের অর্থ পাওয়ার পরপরই তা অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়। ব্যাংক রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনুদান পাওয়ার আগে এই ব্যবসাগুলোর কোনো প্রকৃত অস্তিত্ব বা কার্যক্রম ছিল না।
নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর ২০২৪ সালের মে মাসে এই মামলার তদন্তভার কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরে হস্তান্তর করে। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে অভিযুক্তরা আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে চতুর্থ ডিগ্রির গ্র্যান্ড লারসেনি ও পেটি লারসেনির অভিযোগে তারা দোষ স্বীকার করেন।
আদালত তাদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার নিউ ইয়র্ক স্টেটে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, ‘এই তহবিল ছিল নজিরবিহীন সংকটে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে তারা সেই জরুরি তহবিল থেকে হাজার হাজার ডলার চুরি করেছেন। দোষ স্বীকারের ফলে এখন তাদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে।’
ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, ‘ব্যক্তিগত লাভের জন্য দুর্যোগ তহবিলের অপব্যবহার লজ্জাজনক। লোভকে জনস্বার্থের ওপর রাখার ঘটনা নিউ ইয়র্ক কখনোই মেনে নেবে না।’
আদালতে দোষ স্বীকার করা অভিযুক্তরা হলেন— মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮), তুফাইল আহমেদ (৫০), মাহবুব মালিক (৪১), ইউসুফ এমডি (৪৫), জাকির চৌধুরী (৫৯), মোহাম্মদ খান (৪৯), তানভীর মিলন (৫৫), জুনেদ খান (৫৬) এবং পাকিস্তানি নাগরিক নাদিম শেখ (৫৬)। তারা কুইন্স, নাসাউ ও সাফোক কাউন্টির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
কেই/এমএইচএস

