জেলে এপস্টেইনের মৃত্যু : আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন?
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের দাবিতে তোলপাড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৩
২০১৯ সালে ম্যানহাটনের ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে হাই-প্রোফাইল বন্দি জেফরি এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে এই মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নতুন কিছু দাবি এই ঘটনাকে ঘিরে খুনের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
এপস্টেইনের পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়োগ করা প্রখ্যাত ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ড. মাইকেল ব্যাডেন দাবি করেছেন, এপস্টেইনের গলায় যে ধরনের আঘাতের চিহ্ন এবং হাড় ভাঙার ঘটনা পাওয়া গেছে, তা আত্মহত্যার চেয়ে ‘শ্বাসরোধ করে হত্যার’ (Homicidal Strangulation) দিকেই বেশি নির্দেশ করে। ব্যাডেন তার ৫০ বছরের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, সাধারণত ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে গলায় তিনটি জায়গায় হাড় ভাঙার ঘটনা তিনি দেখেননি, যা এপস্টেইনের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে।
এপস্টেইনের মৃত্যুর রাতে জেলের সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো থাকা এবং কারারক্ষীদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি প্রথম থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছিল। সাম্প্রতিক কিছু তদন্তে দেখা গেছে, ওই রাতে এপস্টেইনের সেলের সামনের ফুটেজে কিছু অসংগতি রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের কিছু ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, এপস্টেইন কে সুইসাইড ওয়াচে রাখার কথা থাকলেও ঘটনার সময় কারারক্ষীরা ঘুমানো কিংবা ইন্টারনেটে সময় কাটানোয় ব্যস্ত ছিলেন।
এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন পাচারের (Sex Trafficking) মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল এবং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জনমনে প্রবল ধারণা রয়েছে যে, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম যেন ফাঁস না হয়, সেজন্যই এপস্টেইন কে জেলের ভেতরে সুকৌশলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও নিউ ইয়র্কের প্রধান মেডিকেল এক্সামিনার ড. বারবারা স্যাম্পসন এখনও তার আগের অবস্থানে অনড় এবং এটিকে আত্মহত্যা হিসেবেই দাবি করছেন।
এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে এই নতুন বিতর্ক কেবল আমেরিকার আদালতেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও কম আমেরিকান মনে করেন এপস্টেইন আত্মহত্যা করেছেন; বড় একটি অংশই মনে করেন এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এমএইচএস

