জেনেভায় বৈঠক আজ
ইরানের পরমাণু আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ থাকবেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫১
গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবো এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেনেভা আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই আলোচনা যদি সফল না হয়, তবে প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে পেন্টাগন।
চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ কঠোর সুরেই কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত গ্রীষ্মে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের পর তেহরান বুঝতে পেরেছে জেদ ধরে থাকার পরিণতি কী হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে তারা (ইরান) চুক্তি না করার পরিণাম ভোগ করতে চাইবে। এবার তারা আলোচনার টেবিলে সমঝোতা করতে আগ্রহী বলেই আমার বিশ্বাস।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানীয় পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছিল। ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে যে, ইরানকে তাদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে— যা তেহরান মানতে নারাজ।
আজ জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় এই দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতিমধ্যে জেনেভায় পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, তেহরান আলোচনার পরিবেশ নিয়ে কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন আগের চেয়ে কিছুটা ‘বাস্তবসম্মত’।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও পর্দার আড়াল থেকে তার পর্যবেক্ষণ ও সংকেত এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, জেনেভার এই কূটনৈতিক টেবিলে কোনো সমঝোতা আসে নাকি আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে।
সূত্র : রয়টার্স
এমএইচএস

