বন্ধ চিকিৎসার সুযোগ
রমজানের প্রথম দিনেই গাজায় শিশুসহ দুজনকে হত্যা করলো ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১০
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের রমজানের প্রথম দিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গাজায় এক শিশু ও এক তরুণসহ দুজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে চাওয়া হাজারো মানুষ আংশিকভাবে খোলা রাফাহ সীমান্তে আটকে রয়েছেন। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর গাজায় নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়িঘর দেখতে যাওয়ার পথে শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে এক শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
গাজার দক্ষিণে খান ইউনুসের পূর্বদিকে বানি সুহেইলা গোলচত্বরে গুলিতে ২০ বছর বয়সী মুহান্দ জামাল আল-নাজ্জার নিহত হন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা WAFA এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গাজার হাসপাতাল সূত্র জানায়, মধ্য গাজার আল-মুঘরাকা এলাকা এবং দক্ষিণের রাফাহ শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় গুলিতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
চিকিৎসার জন্য সীমান্তে অপেক্ষা
গাজা থেকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাওয়া হাজারো মানুষের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। আংশিকভাবে পথ খোলা হলেও বাস্তবে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে পারাপারে কঠোর বাধা বজায় রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর UN Office for the Coordination of Humanitarian Affairs (ওসা) জানায়, আড়াই সপ্তাহ আগে আংশিকভাবে পথ খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬০ জন রোগী গাজা ছাড়তে পেরেছেন। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ৫০০—তার তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম।
মিশরীয় সীমান্ত কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি পারাপারের সুযোগ পাবেন। তবে প্রথম দিন মাত্র পাঁচজন রোগীকে যেতে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization–সহ মানবাধিকার ও চিকিৎসাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গুরুতর অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের অবিলম্বে গাজার বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক Tedros Adhanom Ghebreyesus এ মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পশ্চিম তীর, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমে চিকিৎসার পথ অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। গাজার বাইরে যেসব দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্ভব, তাদেরও রোগী গ্রহণে এগিয়ে আসা উচিত। তবে তিনি উল্লেখ করেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে গাজা কর্তৃপক্ষকেও উদ্যোগ নিতে হবে।
ফিরে আসার পথেও জটিলতা
ওসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৬৯ জন গাজায় ফিরেছেন। গত সপ্তাহে ৪১ জনকে নাসের চিকিৎসা কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তে ইসরায়েলি সেনারা অপমানজনকভাবে তল্লাশি ও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এর আগেও ফিরে আসা অনেকেই জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁদের চোখ বেঁধে রাখা হয় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাজনৈতিক প্রশ্ন করা হয়। মানসিক চাপ সহ্য করার পরই তাঁদের গাজায় ফিরতে দেওয়া হয়।
গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক হাজার ছয় শতাধিক। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সপ্তাহের শুরুতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

