Logo

আন্তর্জাতিক

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম এ ধরনের বৈঠক ছিল। ছবি : বিবিসি

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে নিজেদের অবশিষ্ট সামরিক বাহিনীর বড় একটি অংশ প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জানান, সিরিয়ার ভেতরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব এখন দেশটির সরকারই দেবে, তাই সেখানে আর বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যেই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এলো। 

হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানান, প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ। তবে ওই অঞ্চলে যেকোনো হুমকির জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রস্তুত রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রথম প্রকাশিত এই খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানের কাছাকাছি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও অসংখ্য যুদ্ধবিমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এখন ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে, যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, শনিবার থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন ট্রাম্প। যদিও এ বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এর আগে, চলতি বছরের শুরুতেই সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আল তানফ গ্যারিসন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল শাদ্দাদি ঘাঁটি ত্যাগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতন এবং সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় আইএস অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই দামেস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শারা, যা ছিল সিরিয়ার কোনো নেতার জন্য প্রথম এ ধরনের সফর।

সিরিয়ার সরকার জানুয়ারিতে একটি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে। এদিকে, গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

পেন্টাগন জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে একক আইএস বন্দুকধারীর হামলায় একজন দোভাষী এবং আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে 'অপারেশন হকআই স্ট্রাইক' নামে একাধিক হামলা চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। উল্লেখ্য, আইএস মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ায় মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে।

এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর