Logo

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যৌথ সামরিক মহড়া ইরান-রাশিয়ার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫২

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যৌথ সামরিক মহড়া ইরান-রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের খুব কাছাকাছি বিভিন্ন এলাকায় সামরিক শক্তি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব অবস্থান থেকে ইরানে সরাসরি হামলা চালানো হবে কি না—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মোতায়েন করা জাহাজগুলোর বহরকে ট্রাম্প ‘আরমান্ডা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই নৌবহরে রয়েছে বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকন। এর সঙ্গে রয়েছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত তিনটি যুদ্ধজাহাজ। গত বছরের জুনে ইরানের দুটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় এসব জাহাজ অংশ নিয়েছিল। যুদ্ধজাহাজগুলোতে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও।

আব্রাহাম লিংকনে থাকা অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার ও এফ/এ-১৮ অ্যাটাক প্লেন বর্তমানে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো অবস্থানে রয়েছে। হামলার সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এ অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেটি হলো মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম আধুনিক রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এর সঙ্গে রয়েছে তিনটি ডেস্ট্রয়ার।

জাহাজ ও উড্ডয়ন ট্র্যাকিং–সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এই নৌবহরটি জিব্রাল্টার প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত অভিযানে ফোর্ডের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছিল।

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আরও একটি ডেস্ট্রয়ার পাঠানো হয়েছে উত্তর আরব সাগরে। আরেকটি রয়েছে অন্য যাত্রাপথে। এর ফলে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।

পূর্ব জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান শক্তির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্তত দুই ধাপে সেখানে আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘাঁটিটিতে এসব বিমানের সংখ্যা প্রায় ৩০।

আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান ছাড়াও জানুয়ারির শেষ দিকে জর্ডানে চারটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার জেট পৌঁছায়। এগুলো শত্রুপক্ষের রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা জ্যাম করতে সক্ষম। ৩০ জানুয়ারির একটি স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটিটিতে অন্তত পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দেখা গেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা ও স্যাটেলাইট ছবিতে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহকারী এবং অত্যাধুনিক সেন্সর ও ক্যামেরাসংবলিত গোয়েন্দা বিমানও মোতায়েন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত বাহিনীকে রসদ জোগাতে সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটিতে কয়েক ডজন ট্যাঙ্কার ও কার্গো বিমান স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইরানের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় পেন্টাগন এ অঞ্চলে আরও প্যাট্রিয়ট ও থাড বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দূরপাল্লার বোমারু বিমানগুলো—যেগুলো সরাসরি ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম—উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের শাসকদের উদ্দেশে হুমকি দেওয়ার পর থেকেই এসব বিমানের জন্য প্রস্তুতিমূলক সতর্কতা জারি করে পেন্টাগন।

এরপর থেকে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিতে বিশেষ অভিযান, নজরদারি ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠানো হয়। দিয়েগো গার্সিয়া বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানের অগ্রবর্তী মোতায়েন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর