Logo

আন্তর্জাতিক

বিশ্বে সবচেয়ে বিপন্ন ভাষাগুলো কোথায়?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪০

বিশ্বে সবচেয়ে বিপন্ন ভাষাগুলো কোথায়?

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি ভাষা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত তিন হাজার বা প্রায় ৪০ শতাংশ ভাষা বিপন্ন অবস্থায় আছে।

ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে ইংরেজি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভাষা। ১৮৬টি দেশে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মানুষ ইংরেজি ব্যবহার করেন। ভাষাবিষয়ক ডাটাবেস সংস্থা এথনোলগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন ইংরেজিভাষীর মধ্যে দুজন এটি মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন। বাকি ৮০ শতাংশ মানুষ ইংরেজিকে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা তারও বেশি ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন।

ব্যবহারকারীর দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মান্দারিন চীনা, যার ব্যবহারকারী প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন। তবে মাতৃভাষাভিত্তিক হিসেবে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ভাষা, কারণ চীনের জনসংখ্যা অনেক বেশি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে হিন্দি—ব্যবহারকারী ৬০৯ মিলিয়ন। এরপর রয়েছে স্প্যানিশ (৫৫৯ মিলিয়ন) এবং স্ট্যান্ডার্ড আরবি (৩৩৫ মিলিয়ন)।

কোনো ভাষা তখন বিপন্ন হয়ে পড়ে, যখন একটি সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের সন্তানদের কাছে নিজেদের ভাষার পরিবর্তে অধিক প্রভাবশালী অন্য ভাষা হস্তান্তর করতে শুরু করে। অনেক ভাষা আবার দ্বিতীয় ভাষা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ৩৩৭টি ভাষাকে ‘ডরম্যান্ট’ বা সুপ্ত বলা হয় এবং ৪৫৪টি ভাষা ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে।

ডরম্যান্ট ভাষা হলো এমন ভাষা, যার দক্ষ বক্তা আর নেই; তবে ভাষাটি সামাজিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং কোনো জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ের অংশ হিসেবে টিকে আছে। অন্যদিকে বিলুপ্ত ভাষা হলো এমন ভাষা, যার কোনো বক্তা নেই এবং যার কোনো সামাজিক ব্যবহার বা ঐতিহ্যগত দাবি অবশিষ্ট নেই।

বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ বিপন্ন ভাষা মাত্র ২৫টি দেশে রয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ওশেনিয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন ভাষা রয়েছে। এরপর রয়েছে এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকা।

অস্ট্রেলিয়ায় ইয়োগামবেহ একটি বিপন্ন আদিবাসী ভাষা। পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট, সিনিক রিম ও লোগান এলাকায় ইউগামবেহ জনগোষ্ঠী এ ভাষা ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি এবং শিক্ষামূলক অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষাটি তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাপানের আইনু ভাষা গুরুতরভাবে বিপন্ন। ইউনেস্কোর মতে, ভাষাটিকে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা পরিবারে নিশ্চিতভাবে যুক্ত করা যায় না। ২০০৬ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ২৩ হাজার ৭৮২ জন আইনু জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাত্র ৩০৪ জন ভাষাটি জানেন।

ইথিওপিয়ার অনগোতা ভাষাও গুরুতরভাবে বিপন্ন। দক্ষিণ-পশ্চিম ইথিওপিয়ার ওয়েইতো নদীর পশ্চিম তীরের একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাষাটি প্রচলিত ছিল। বর্তমানে প্রায় ৪০০ সদস্যের ওই সম্প্রদায়ের মধ্যে কেবল কয়েকজন প্রবীণ ভাষাটি বলতে পারেন।

উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় প্রায় সব আদিবাসী ভাষাই বিপন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা ক্রেওল—ফরাসিভিত্তিক একটি ক্রেওল ভাষা, যাতে আফ্রিকান ও আদিবাসী প্রভাব রয়েছে—গুরুতরভাবে বিপন্ন এবং প্রধানত প্রবীণরাই এটি ব্যবহার করেন।

বলিভিয়ার লেকো একটি বিপন্ন আদিবাসী ভাষা। এটি একটি ‘আইসোলেট’ ভাষা, অর্থাৎ অন্য কোনো ভাষার সঙ্গে এর জেনেটিক সম্পর্ক নেই। প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জন লেকো জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে কেবল প্রবীণরাই ভাষাটি ব্যবহার করেন।

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত কোরনিশ ভাষা একসময় ইউনেস্কো কর্তৃক বিলুপ্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। পরে পুনরুজ্জীবন উদ্যোগের ফলে ২০১০ সালে একে বিপন্ন ভাষা হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয়। ২০২১ সালের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আদমশুমারি অনুযায়ী, ৫৬৩ জন এটি মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর