Logo

আন্তর্জাতিক

শুল্ক চুক্তি থেকে পিছু হটবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্পের প্রতিনিধি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫২

শুল্ক চুক্তি থেকে পিছু হটবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্পের প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

যেসব দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যে শুল্ক চুক্তি হয়েছে, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) Face the Nation অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, সুইজারল্যান্ডসহ প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে গত নয় মাসে যে সমঝোতা হয়েছে, নতুন ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক তার বাইরে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন Supreme Court of the United States রায় দেন, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর হোয়াইট হাউস জানায়, এখন থেকে ওই শুল্ক আর সংগ্রহ করা হবে না।

তবে আদালতের রায়ের পরপরই পাল্টা পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালের ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’-এর ১২২ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। পরে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার কথাও জানান।

নতুন শুল্কের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত?

ট্রাম্পের দাবি, নতুন শুল্কারোপের আইনি ভিত্তি আগের চেয়ে ‘আরও শক্তিশালী’। তবে আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, ১২২ ধারার পথেও প্রেসিডেন্টের সামনে বড় বাধা রয়েছে। ফলে নতুন শুল্কনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প মনে করছেন, এই ধারায় তিনি আগের মতোই একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবেন। কিন্তু মার্কিন প্রধান বিচারপতি John Roberts এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা এ যুক্তির সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, ১২২ ধারার তিনটি প্রধান সীমাবদ্ধতা রয়েছে—

শুল্কের সীমা ও সময়কাল: ১২২ ধারার অধীনে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারেন এবং তা কেবল ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকে। এ সময়সীমা পার হলে শুল্ক বহাল রাখতে কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

কঠোর শর্তাবলি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বা লেনদেনে বড় ধরনের ঘাটতির প্রমাণ দেখাতে না পারলে এ ধারা ব্যবহার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহার করা যায় না।

কংগ্রেসের ক্ষমতা: বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আধিক্য রয়েছে। পাশাপাশি রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও একটি অংশ ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধী। ফলে ১৫০ দিন পর কংগ্রেসে শুল্কের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এখন কংগ্রেসের ভূমিকাই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ, যা আগে ছিল না। এতে ব্যবসায়িক লবিংয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

ইউরোপীয় সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল ইকোনমির যুক্তরাজ্য ট্রেড পলিসি প্রজেক্টের পরিচালক David Henig বলেন, “এই প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি স্থায়ী হবে—এমন প্রত্যাশা করা কঠিন। ফলে সব সরকারই এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে।”

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ডোনাল্ড ট্রাম্প

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর