ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীর বৃহত্তম বহর মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীতে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার নাবিকের জন্য সম্ভাব্য ইরান–সংঘাতের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দৈনন্দিন জীবনযাপন।
ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড গত বছরের জুন থেকে সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জাহাজটির মোতায়েনের সময়সীমা বাড়ানো হওয়ায় নাবিকদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। জাহাজের টয়লেট বিকল হয়ে গেছে এবং পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
একজন নাবিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ক্রু সদস্যরা সবাই ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে নৌবাহিনী ছেড়ে যেতে চান।’ জাহাজে থাকা নাবিকদের বেশির ভাগই ২০ বছরের কম বয়সী। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
জাহাজে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়েছে। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো–কে আটক করার অভিযানে ফোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই অভিযানের পর নাবিকরা জানতে পারেন, তাঁদের মোতায়েন আরও দীর্ঘ হতে পারে এবং এখন অন্য একটি বহরে যোগ দিতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেন, ‘শান্তিকালে সাধারণত একটি বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েন ছয় মাস হয়। ফোর্ডের নাবিকরা ইতিমধ্যে আট মাস ধরে সমুদ্রে আছেন এবং এটি ১১ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য রেকর্ড।’
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে আছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান বহনকারী ও হাজারো নাবিক পরিচালিত দুটি বিমানবাহী রণতরী একসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করা বিরল ঘটনা।

