মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা, তেলের বাজারে অস্থিরতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৭
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোয় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স রবিবার (১ মার্চ) জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জ্বালানি ও রিফাইনিং খাতভিত্তিক বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের জ্বালানি ও পরিশোধন বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা তেলের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও মূল উদ্বেগের বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া। তার ভাষ্য, এই প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে বাজার চালু হওয়ার পর দাম ১০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।
বাণিজ্য সূত্রগুলো জানায়, তেহরান জাহাজ চলাচল নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অধিকাংশ ট্যাংকার মালিক, তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন স্থগিত করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট জানান, মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন-ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস রবিবার ঘোষণা দিয়েছে, এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানো হবে। তবে এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার মাত্র ০.২ শতাংশ, যা বাজারের বড় ধাক্কা সামাল দিতে একেবারেই যথেষ্ট নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ হোর্হে লিওন বলেন, বিকল্প অবকাঠামো ব্যবহার করে কিছু তেল সরবরাহ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ হারানোর ঝুঁকি থাকবে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ও আবুধাবির পাইপলাইন ব্যবহার করেও এই পুরো ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।
রিস্টাড এনার্জির পূর্বাভাস, লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে উঠতে পারে।
ইরান সংকটের জেরে এশিয়ার বিভিন্ন সরকার ও তেল শোধনাগারগুলো নিজেদের মজুত পরিস্থিতি এবং বিকল্প সরবরাহ ও পরিবহন পথ নিয়ে জরুরি মূল্যায়ন শুরু করেছে।

