ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর আজ মঙ্গলবার রাতে দিল্লি থেকে ঢাকায় এসেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ডোনাল্ড লুর উত্তরসূরি হিসেবে এটি তাঁর প্রথম ভারত ও বাংলাদেশ সফর। ঢাকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা তাঁর সফরের মূল লক্ষ্য।
দিল্লি হয়ে ঢাকায় পল কাপুরের তিন দিনের সফরে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রসঙ্গগুলো আলোচনায় আসবে। ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ব্যবসা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও ভিসা–সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার থাকতে পারে। মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সই করা অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আরটিএ) চুক্তি মেনে চলার বার্তা থাকবে নতুন সরকারের প্রতি। এ কারণে চুক্তির আগে এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।
শুল্ক নিয়ে মার্কিন আদালতের রায়ের পর দেশটির বাণিজ্য দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিচারাধীন থাকার পরও অংশীদারেরা আলোচনা করে চুক্তিতে সই করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর থাকবে।
সফরসূচি অনুযায়ী পল কাপুর আগামীকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
সফরের শেষ দিনে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সকালে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এরপর বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। দুপুরে বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন পল কাপুর। পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। এ দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে পল কাপুরের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় জানান, পল কাপুরের সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে তিনি নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হবে।
এএস/

