মধ্যপ্রাচ্যে তেল বাণিজ্যের চেয়েও ভয়ংকর হবে পানি সংকট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১:১৯
ছবি: আইএএনএস
ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা তো বটেই, তার চেয়েও বড় এক অস্তিত্বসংকটে পড়তে পারে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো। বর্তমানে যে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, তা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও ১০ গুণ বেশি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে তেল নয়, আসল সংকট ‘পানি’। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য প্রচলিত একটি কথাই এখন নির্মম বাস্তবতা—‘আপনি তেল পান করতে পারবেন না’।
এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের সুপেয় পানির জন্য প্রায় ৪০০টি কৃত্রিম লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। ইরান যদি তেলের পর এই ওয়াটার প্ল্যান্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে পুরো সমাজব্যবস্থা কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে।
সুপেয় পানির জন্য ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর এই অঞ্চলের দেশগুলোর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। কুয়েতের ৯০ শতাংশ, ওমানের ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবের ৭০ শতাংশ (রিয়াদ শহরের ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশের বেশি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪২ শতাংশ পানির চাহিদা এসব প্ল্যান্ট থেকে পূরণ হয়।
একটি ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পানির মূল উৎস হলো জুবাইল প্ল্যান্ট। যদি কোনোভাবে—শারীরিক হামলা বা সাইবার আক্রমণে—এই প্ল্যান্টটি অচল হয়ে যায়, তবে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই রিয়াদ শহর খালি করে দিতে হতে পারে।
পানির এই অভাব কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনবে না, বরং বর্তমান সৌদি সরকারের কাঠামোকেও ধ্বংস করে দিতে পারে।
বিশ্বজুড়ে পানি নিয়ে সংঘাতের উদ্বেগজনক হারও বাড়ছে। প্যাসিফিক ইনস্টিটিউটের ‘ওয়াটার কনফ্লিক্ট ক্রনোলজি’র সর্বশেষ (নভেম্বর ২০২৫) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি নিয়ে সহিংসতার ঘটনা এক বছরে ২০ শতাংশ বেড়েছে।
২০১০ সালে যেখানে পানি নিয়ে মাত্র ২১টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২০টিতে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় খরা ও পানির অভাব এই সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান
এএস/

