পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় হামলার প্ল্যান ইরানের?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৪১
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের বাতাসে এখন বারুদের গন্ধ। মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। এর মধ্যেই ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এবার সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং তার চেয়েও ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধের ছক কষছে তেহরান।
৮ দিনের এই যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তবে এবার ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর টিকে থাকার প্রধান লাইফলাইনের ওপর নজর রাখতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরান যদি এই লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে, তা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে প্রভাবের চেয়েও ১০ গুণ বেশি ভয়াবহ হবে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানের পরবর্তী সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু মধ্যপ্রাচ্যের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বা সমুদ্রের পানি শোধন কেন্দ্রগুলো, যা এই অঞ্চলের দেশগুলোর টিকে থাকার প্রধান লাইফলাইন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে তেল নয়, আসল সংকট হচ্ছে ‘পানি’। এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের পানীয় জলের জন্য প্রায় ৪০০টি কৃত্রিম লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। এর অধিকাংশে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে পশ্চিমাদের। ইরান মূলত এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করছে।
সৌদি আরব থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের মতো দেশ তাদের সুপেয় পানির ৭০ থেকে ৯০ শতাংশের জন্য এই প্ল্যান্টগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান জানে যে এই স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানলে দেশগুলোকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। একটি বড় পানি শোধন কেন্দ্র অকেজো হয়ে গেলে কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল জনপদ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
তাছাড়া, তেল শোধনাগারের তুলনায় এই বেসামরিক স্থাপনাগুলো অনেক ক্ষেত্রে কম সুরক্ষিত এবং এগুলো উপকূলীয় এলাকায় থাকায় ড্রোন বা মিসাইল হামলার জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানে, তবে তা কেবল যুদ্ধ নয়, বরং একটি চরম মানবিক সংকটে রূপ নেবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আমেরিকার সঙ্গে তাদের সামরিক সহযোগিতার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইরানের এই নতুন রণকৌশল মোকাবিলায় আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
এএস/

