লারিজানি হত্যার বদলা: তেল আবিবে ‘ক্লাস্টার বোমা’ হামলা চালাল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা। ১৮ মার্চ ২০২৬। ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলি লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব লক্ষ্য করে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ (গুচ্ছ বোমা) যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে।- তথ্য রয়টার্সের।
ইসরায়েলের দাবি, ইরান একাধিকবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট বোমায় বিভক্ত হয় এবং বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে যা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন।
এদিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে ইরান জানিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের মধ্যে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা। তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানে।
সাম্প্রতিক হামলায় জনবহুল তেল আবিবে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি হামলায় আলি লারিজানি নিহত হওয়ার বিষয়টি ইরান সরকার ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে। ওই হামলায় তার ছেলে এবং ডেপুটি আলিরেজা বায়াত-ও নিহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ক্লাস্টার বোমা’ ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

