যুদ্ধের খরচ জোগাতে ধনকুবেরদের দ্বারস্থ পুতিন
মস্কোতে ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পুতিন এই প্রস্তাব দেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫০
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও থামার লক্ষণ নেই। বরং পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণ দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে গিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেটে টান পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার দেশের প্রভাবশালী ধনকুবেরদের কাছে বড় অংকের অনুদান চেয়েছেন পুতিন। মস্কোতে ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পুতিন এই প্রস্তাব দেন।
গত বছর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় ৪২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩.১ ট্রিলিয়ন রুবেল (১২১ বিলিয়ন পাউন্ড)। আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল বিক্রিতে বড় ধরনের লোকসান এবং বাজেটে বিশাল ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পুতিন এখন ব্যক্তিগত খাতের সহায়তা চাইছেন। খবর পাওয়া গেছে, অন্তত দুইজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা খাতে বড় অংকের অনুদান দিতে রাজি হয়েছেন।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই রাশিয়ার বাজেট ঘাটতি পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। রুশ অর্থনীতি মন্ত্রী মাক্সিম রেশেতনিকভ জানিয়েছেন, রুবেলের মান আরও পড়ে গেলে বড় কোম্পানিগুলোর ওপর পুনরায় 'উইন্ডফল ট্যাক্স' বা অতিরিক্ত মুনাফা কর আরোপ করা হতে পারে।
এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ওপর ভ্যাট বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করা হয়েছে যাতে আগামী তিন বছরে অতিরিক্ত ৬০০ বিলিয়ন রুবেল সংগ্রহ করা যায়। পুতিন এমন সময়ে এই কঠোর পদক্ষেপ নিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটন শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে কিয়েভকে দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তা সাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন। জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রশাসন কিয়েভের ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া শান্তি আলোচনায় আগ্রহী হলেও ভূখণ্ডগত ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈঠকে পুতিন ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেলের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও সেই বাড়তি অর্থ যেন ডিভিডেন্ড বা বিলাসিতায় অপচয় না করা হয়। তিনি বর্তমান অস্থিতিশীল বাজারে ব্যবসায়ীদের 'রক্ষণশীল' হওয়ার পরামর্শ দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের ধনকুবেরদের কাছ থেকে যুদ্ধের টাকা চাওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোষাগার এখন কতটা চাপের মুখে। দনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত পুতিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ, যার জন্য যে কোনো উপায়ে অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে চান তিনি।

