জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফিলিপাইনে পরিবহন ধর্মঘট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫৬
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফিলিপাইন। রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে গত দুই দিন ধরে ব্যাপক পরিবহন ধর্মঘট পালন করেছেন শ্রমিকরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের চেয়ে তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী।
ম্যানিলার ব্যস্ত রাস্তায় জিপনি (ফিলিপাইনের
জনপ্রিয় গণপরিবহন) চালিয়ে আগে যেখানে দিনে ১০ ডলার আয় হতো, সেখানে এখন তার এক-তৃতীয়াংশ
ঘরে নিতে পারছেন না ৫২ বছর বয়সী চালক আর্তুরো মডেলো। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “আমি আমার সন্তানের
স্কুলের টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারছি না। এই বধির সরকারকে কথা শোনানোর জন্যই আমরা
রাস্তায় নেমেছি।”
ইরান যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে গত মঙ্গলবার
ফিলিপাইনে এক বছরের জন্য ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন
প্রেসিডেন্ট মার্কোস। এই ডিক্রির ফলে সরকার দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ এবং মজুদদারি বা
মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই পদক্ষেপ
অনেক দেরিতে নেওয়া হয়েছে এবং এটি সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি ফেরাতে পারছে না। প্রতিবেশী
দেশগুলোর তুলনায় ফিলিপাইনে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেশি। বর্তমানে দেশটিতে ডিজেলের দাম
প্রতি লিটারে ২.৩ ডলার (প্রায় ২৭০ টাকা), যা সিঙ্গাপুরের সমান। অথচ মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম
বা থাইল্যান্ডে এর দাম প্রায় অর্ধেক। ফিলিপাইনের এই চরম সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে
বিশেষজ্ঞরা দেশটির জ্বালানি আমদানির ওপর ৯৮ শতাংশ নির্ভরশীলতা এবং উচ্চ কর হারকে (১২%
ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক) দায়ী করছেন।
ধর্মঘটের মূল দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে জ্বালানি
তেলের ওপর ‘প্রাইস ক্যাপ’ বা সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ। তেলের
ওপর থেকে আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার। ১৯৯৮ সালের তেল শিল্প বি নিয়ন্ত্রণ
আইন বাতিল করে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবহন শ্রমিককে অবিলম্বে
৫,০০০ পেসো ($৮৩) ভর্তুকি প্রদান।
বিক্ষোভের সময় ‘নো টু অয়েল প্রাইস
হাইকিং কোয়ালিশন’-এর ব্যানারে শ্রমিকরা মার্কিন আগ্রাসনের
সমালোচনা করেন। শ্রমিক নেতা জেরোম অ্যাডোনিস বলেন, “ফিলিপিনোরা এই
যুদ্ধ শুরু করেনি, তারা এর অংশও হতে চায় না। অথচ আমেরিকার ফেলা বোমা যেন আমাদের ওপরই
এসে পড়ছে।” অনেক বিক্ষোভকারীকে
এসময় ইরানের পতাকাসহ মিছিল করতে দেখা যায়।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্লার ডি কাস্ট্রো
জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিককে ২.৫ বিলিয়ন পেসো ভর্তুকি দিয়েছে। তবে
শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই খাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ কাজ করে এবং ডাটাবেজে নাম না থাকায়
অনেকেই এই সহায়তা পাচ্ছেন না। বিরোধী আইনপ্রণেতারা দাবি তুলেছেন, শুধুমাত্র আবগারি
শুল্ক স্থগিত নয়, বরং স্থায়ীভাবে কর কমিয়ে সাধারণ মানুষকে এই ‘এনার্জি ইমার্জেন্সি’ থেকে রক্ষা করতে
হবে।

