রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে জর্জিয়া মেলোনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৭
ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার যে ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল, সাম্প্রতিক এক সাংবিধানিক গণভোটে পরাজয়ের ফলে তাতে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের নামে বিচারক ও প্রসিকিউটরদের ভূমিকা পরিবর্তনের যে প্রস্তাব মেলোনি জনগণের সামনে রেখেছিলেন, তাতে ৫৪ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়ে তার সাড়ে তিন বছরের শাসনের ওপর এক প্রকার অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের বিশাল অংশগ্রহণ এবং তাদের বিরোধী অবস্থান মেলোনির জনপ্রিয়তায় ধস নামার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মেলোনির এই বিপর্যয়ের
পেছনে অভ্যন্তরীণ ইস্যুর চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
সাথে তার ঘনিষ্ঠতা। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে ইতালিতে
জ্বালানি তেলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব
পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৭ শতাংশ ইতালীয়
নাগরিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির ঘোর বিরোধী। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক
মন্দার দায়ভার এখন মেলোনির কাঁধেই এসে পড়ছে। যদিও মেলোনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের কিছু
পদক্ষেপের সমালোচনা করার চেষ্টা করেছেন, তবে জনগণের ক্ষোভ প্রশমনে তা যথেষ্ট ছিল না।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য
মেলোনি এখন আগাম নির্বাচনের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। যদিও তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭
সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে, তবুও পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই তিনি নতুন করে
জনমত যাচাই করতে চান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের করোনা পরবর্তী রিকভারি ফান্ডের বিশাল অঙ্কের
অর্থ সহায়তা এ বছরের শেষেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আগামী বছর ইতালির অর্থনীতি আরও
সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ইতালির বামপন্থী ও বিরোধী দলগুলো অসংগঠিত
অবস্থায় থাকায়, দ্রুত নির্বাচন দিলে তারা জোটবদ্ধ হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবে না—এমনটিই মনে করছেন
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
তবে আগাম নির্বাচন দেওয়ার পথে বেশ কিছু
জটিলতাও রয়েছে। একদিকে বৈশ্বিক ইরান যুদ্ধের অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচন দেওয়াকে অনেকে
অদায়িত্বশীল আচরণ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে মেলোনির নিজের দলের অনেক সংসদ সদস্য এখনই
ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। কারণ, নতুন নির্বাচিত অনেক এমপির পেনশনের জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম
সময় এখনও পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে আলজেরিয়া সফরে থাকা মেলোনি নিজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি
পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন এবং দেশে ফিরে মন্ত্রিসভায় শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। দুই
জন মন্ত্রী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং আরও কয়েকজনকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন
তিনি। বিশ্ব রাজনীতির এই সংকটময় সময়ে মেলোনি শেষ পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি নেবেন
কি না, তা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

