কিউবায় পৌঁছালো রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বিশাল চালান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৩
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কিউবার উপকূলে পৌঁছেছে রাশিয়ার একটি বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর আরোপিত জ্বালানি অবরোধ শিথিল করার ইঙ্গিত দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই জাহাজটি কিউবার জলসীমায় প্রবেশ করে। রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
গত জানুয়ারি মাস থেকে কিউবায় তেলের তীব্র
সংকট চলছে। রাশিয়ার এই ‘অ্যানাতোলি কোলোডকিন’ নামক ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত
তেল রয়েছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে দেশটিতে পৌঁছানো প্রথম বড় কোনো চালান। রাশিয়ার জ্বালানি
মন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভ একে একটি ‘মানবিক সহায়তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক
নিষেধাজ্ঞার চাপে কিউবা বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস
মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর থেকে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর কার্যত একটি ‘তেল অবরোধ’ আরোপ করেছিল এবং যেকোনো দেশ কিউবাকে তেল
দিলে তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল।
তবে গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের
সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কণ্ঠে ভিন্ন সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, "রাশিয়া
বা অন্য কোনো দেশ কিউবায় তেল পাঠালে আমার কোনো সমস্যা নেই। সেখানে মানুষের টিকে থাকার
জন্য জ্বালানি প্রয়োজন।" ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা কিউবা নীতির একটি
বড় ধরনের পরিবর্তন বা সাময়িক শিথিলতা হিসেবে দেখছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিউবা জুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং
চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছিল যে, জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবার হাসপাতালগুলোতে
জরুরি সেবা এবং আইসিইউ পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাভানার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পই
বর্তমানে বন্ধ।
প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলের নেতৃত্বাধীন
কিউবান সরকার বর্তমানে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনার
চেষ্টা করছে। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থানের অনমনীয়তা এই আলোচনার পথকে জটিল
করে তুলেছে।
রাশিয়ার এই সহায়তা কিউবার জন্য এক সাময়িক
স্বস্তি বয়ে আনলেও, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান হবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন
ও হাভানার মধ্যকার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

