Logo

আন্তর্জাতিক

জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অস্তিত্বের সংকটে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৬

জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অস্তিত্বের সংকটে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি

এক সময় ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি এখন এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থান থাকা সত্ত্বেও আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অটোমেশনের দাপটে পিষ্ট হচ্ছে এই শ্রেণি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি আট বছরে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বাড়ছে না আয়।

নভি মুম্বাইয়ের একটি কন্ট্রোল রুম এখন একটি বড় পরিবর্তনের প্রতীক। যেখানে আগে ৩০ হাজার এটিএম পাহারায় ৬০ হাজার নিরাপত্তা রক্ষীর প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন মাত্র ১০০ জন অপারেটর এবং এআই চালিত বটের মাধ্যমে সেই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। এই চিত্রটি ভারতের সামগ্রিক কর্মসংস্থানের এক রূঢ় বাস্তবতা।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের আগে হোয়াইট কলার চাকরির প্রবৃদ্ধি যেখানে ১১ শতাংশ ছিল, তা এখন মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে আইটি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  প্রভাবে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ কর্মী কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি থেকেও পাস করা শিক্ষার্থীরা এখন কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না। ২১,৫০০ গ্রাজুয়েটের মধ্যে প্রায় ৮,০০০ জনই বর্তমানে বেকার। যারা চাকরি পাচ্ছেন, তাদের বেতনও পূর্বসূরীদের তুলনায় অনেক কম। ফলে মধ্যবিত্তের কাছে শিক্ষার যে 'গোল্ডেন টিকিট' ছিল, তা এখন অনেকটা লটারির মতো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবিত্তের আয়ের প্রবৃদ্ধি যেখানে নামমাত্র, সেখানে খরচের হার লাগামহীন এর মধ্যে বছরে চিকিৎসা খরচ বাড়ছে প্রায় ১৪ শতাংশ, খাদ্যদ্রব্যে বাড়ছে ১১শতাংশ, শিক্ষা ও বাড়ি ভাড়ায় বাড়ছে ৮-১৩শতাংশ। একটি পরিবার ২০১৬ সালে ১০ লাখ রুপিতে যেভাবে জীবনযাপন করত, বর্তমানে একই মানের জীবন বজায় রাখতে তাদের বছরে ২০ লাখ রুপির প্রয়োজন।

আয় ও ব্যয়ের এই বিশাল ব্যবধান মেটাতে মানুষ এখন ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রায় অর্ধেক ভারতীয় পরিবার ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ করেছে। এমনকি অনেকে পুরনো ঋণ শোধ করতে নতুন করে ঋণ নিচ্ছেন। হতাশা থেকে অনেকে শেয়ার বাজারের 'ফিউচার অ্যান্ড অপশনস' -এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৯ মিলিয়ন ভারতীয় এই খাতে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার হারাচ্ছেন—যা দেশটির শিক্ষা বাজেটের সমান। ভারতের জিডিপি-র ৬০ শতাংশই আসে অভ্যন্তরীণ ভোগ বা খরচ থেকে। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় গাড়ি বিক্রির হার স্থবির হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ভারতের ৯৭০ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে আয়কর দাতা মধ্যবিত্তের সংখ্যা মাত্র ৪০ মিলিয়ন। সংখ্যার দিক থেকে কম হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তারা বরাবরই উপেক্ষিত। দরিদ্রদের ভোটব্যাংক আর ধনীদের নির্বাচনী ফান্ডের চাপে মধ্যবিত্তরা কেবল কর দিয়েই যাচ্ছে, বিনিময়ে পাচ্ছে না পর্যাপ্ত সুরক্ষা। ভারতের প্রবৃদ্ধি যাদের ওপর ভর করে গড়ে উঠেছিল, সেই মধ্যবিত্ত শ্রেণি টিকে থাকতে পারবে কি না—তাই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ভারত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন