সুপরিকল্পিতভাবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে রাশিয়ার ইন্টারনেট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫৬
রাশিয়া ধীরগতিতে কিন্তু সুপরিকল্পিতভাবে তাদের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে বহিবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্রেমলিনের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার কোটি কোটি মানুষকে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশটির জনজীবন ও অর্থনীতিতে।
ইরানের সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউনের
সঙ্গে তুলনা করা হলেও রাশিয়ার পদ্ধতিটি কিছুটা ভিন্ন এবং জটিল। রাশিয়ার ইন্টারনেট অবকাঠামো
বিকেন্দ্রীভূত হওয়ায় সরকার একযোগে সব বন্ধ না করে অঞ্চলভেদে মোবাইল ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
করছে। ২০ মার্চ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ ব্যাপকভাবে ব্লক
করা হচ্ছে। মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো প্রধান শহরসহ প্রায় ১৫টি অঞ্চলে গ্রাহকরা
ইন্টারনেট সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এটি ১০০ বছর পিছিয়ে যাওয়ার
মতো এক পদক্ষেপ। তারা হয়তো শিগগিরই কাগজ-কলম, টেলিগ্রাফ আর ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থায় ফিরে
যাবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা ‘রস্টেলিকম’-এর প্রধান ইঙ্গিত
দিয়েছেন যে, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের দিন ফুরিয়ে আসছে। এগুলোর বিকল্প হিসেবে সরকার
নিয়ন্ত্রিত নিজস্ব মেসেজিং সার্ভিস ‘ম্যাক্স’ চালুর তোড়জোড়
চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে নাগরিকদের যোগাযোগের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
করতে চায় পুতিন প্রশাসন।
ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে রাশিয়ার সাধারণ
মানুষ ডিজিটাল লেনদেন, ব্যাংকিং সেবা এবং সাধারণ ফোন কল করতেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাশিয়ার খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন—দেশটিতে হঠাৎ
করেই পেজার, কাগজের ম্যাপ এবং এনালগ মোবাইল ফোনের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। মানুষ
এখন ইন্টারনেটের বিকল্প হিসেবে পুরনো প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষক সংস্থা
'ওনি' এবং 'অ্যামনেসিয়া ভিপিএন' জানিয়েছে, শুরুতে রাশিয়া এই ব্ল্যাকআউটগুলোকে ইউক্রেনীয়
ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষার অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি পরিষ্কার
যে, রুশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘রসকমনডজর’ কঠোর বিধিনিষেধের
মধ্যে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সচল রাখা যায়, তার পরীক্ষা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাশিয়ার
এই ‘ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা’ ভবিষ্যতে আরও
প্রকট হবে। বর্তমানে কেবল মোবাইল ইন্টারনেটে সীমাবদ্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই ঘরের ব্রডব্যান্ড
সংযোগগুলোতেও একই ধরনের কঠোর সেন্সরশিপ বা শাটডাউন কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

