ভোটের আগেই আসামে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমানোর অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৭
আসামের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘জেরিম্যান্ডারিং’-এর মাধ্যমে মুসলিম ভোটারদের রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘদিনের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিয়ে রাজ্যটির ১২৬টি আসনের সীমানা এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে, যার ফলে আগে যেখানে প্রায় ৩৫টি আসনে মুসলিম ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন, এখন তা কমে মাত্র ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নতুন সীমানা বিন্যাস বিরোধী দল ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কাটিগড়ার মতো সীমান্ত সংলগ্ন নির্বাচনী
এলাকাগুলোতে আগে হিন্দু ও মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা প্রায় সমান থাকলেও, নতুন নিয়মে পার্শ্ববর্তী
হিন্দু প্রধান এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটারকে এই আসনে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে
মুসলিম প্রার্থীদের জেতার সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র
যাদব এই প্রক্রিয়াকে ‘সাম্প্রদায়িক জেরিম্যান্ডারিং’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যেখানে ‘ক্র্যাকিং’ ও ‘প্যাকিং’-এর মতো কৌশল ব্যবহার করে মুসলিম
ভোটকে বিভিন্ন হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা নির্দিষ্ট কিছু
আসনে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।
বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি এবং আলগাপুরের
মতো আসনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। মুসলিম প্রধান পকেটগুলো কেটে অন্য আসনের সাথে
জুড়ে দিয়ে সেগুলোকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে রূপান্তর করা হয়েছে। বরপেটার মতো আসনে,
যেখানে আগে একাধিকবার মুসলিম প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেটি এখন তফশিলি জাতির
জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। আসামের প্রভাবশালী মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া নির্বাচনী প্রচারণায়
সরাসরি জানিয়েছেন যে, সীমানা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর
পক্ষে জয়লাভ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিজেপি সরকার এই পদক্ষেপকে ‘খিলঞ্জিয়া’ বা ভূমিপুত্রদের রাজনৈতিক অধিকার
রক্ষার কৌশল হিসেবে দাবি করলেও, ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মতে এটি তাদের কণ্ঠস্বর রোধ
করার একটি নীল নকশা। আসামের মোট জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশের বেশি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, এই
সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে তাদের সংসদীয় ও বিধানসভা প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে
হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটারদের মতে, তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার থাকলেও সেই
ভোটের মাধ্যমে নিজেদের সত্যিকারের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার ক্ষমতাটি কার্যত কেড়ে নেওয়া
হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

