ইসরায়েলে বিপক্ষে লেখা কলামিস্টের পাশে সংবাদমাধ্যম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৪
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত একজন কলামিস্টের উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের অবস্থান নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘ড্রপ সাইট নিউজ’ নামক একটি প্রগতিশীল সংবাদমাধ্যমের কন্ট্রিবিউটর আবুবকর আবেদ সম্প্রতি ইসরায়েলকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বান জানিয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
নিজেকে ‘দুর্ঘটনাজনিত যুদ্ধ সংবাদদাতা’ হিসেবে
পরিচয় দেওয়া ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবুবকর আবেদ গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে
একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, "ইসরায়েলকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলাই যথেষ্ট
প্রতিশোধ নয়। ইসরায়েলিদের আর নিরাপদ বোধ করতে দেওয়া উচিত নয়। তারা যেখানেই যাক, তাদের
তাড়া করতে হবে। এই সন্ত্রাসী পরজীবীদের আমাদের গ্রহ থেকে সরিয়ে দিতে হবে।"
এই মন্তব্যের পর কট্টরপন্থী এবং ইসরায়েলপন্থী
সংগঠনগুলো ওই সংবাদমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা শুরু করে। তবে ‘ড্রপ সাইট নিউজ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রায়ান
গ্রিম এই মন্তব্যের সরাসরি নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বলেন, তার এই বক্তব্য আমাদের সম্পাদকীয় অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব
করে না। তবে যারা একটি গণহত্যার মধ্য দিয়ে বেঁচে ফিরছেন, তাদের ভাষার ওপর আমরা কখনোই
পুলিশি নজরদারি চালাতে যাব না।"
‘ড্রপ সাইট নিউজ’ নিজেকে একটি অরাজনৈতিক
এবং অনুসন্ধানী সংবাদ সংস্থা হিসেবে দাবি করে, যারা মূলত শক্তিশালী দেশগুলোর অপরাধ
এবং গোপন সংঘাত নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে
তাদের কভারেজ পশ্চিমা বিশ্বে বেশ পরিচিত।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই
সংবাদমাধ্যমটি ধনকুবের জর্জ সোরোসের ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন’ থেকে বড় অংকের
অনুদান পায়। ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ডেস্ক স্থাপনের জন্য সংস্থাটি ২ লাখ ৫০ হাজার
ডলারের একটি অনুদান দিয়েছিল। এছাড়াও ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি ওয়ার্কস এডুকেশন ফান্ড’-এর
মাধ্যমেও এই প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করা হয় বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলপন্থী লবিস্ট এবং বিশ্লেষকরা বলছেন,
এ ধরনের বক্তব্য সরাসরি সহিংসতার উস্কানি এবং ইহুদিবিদ্বেষের শামিল। তারা অভিযোগ করেছেন
যে, ‘গণহত্যার শিকার’
হওয়ার দোহাই দিয়ে এ ধরনের উগ্রবাদী ভাষাকে সমর্থন করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
বর্তমানে মার্কিন রাজনীতিতে এই ইস্যুটি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যে
নতুন করে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

