বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট, রেশনিংয়ের পথে হাঁটছে দেশগুলো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৬
ইরান যুদ্ধের জেরে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন বিপর্যস্ত। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অধিকাংশ দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর সব পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বিশ্বের অনেক জায়গায় ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চালু হয়েছে জ্বালানি রেশনিং। এমনকি অনেক দেশে দাপ্তরিক কাজ ঘরে বসে করার (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) পাশাপাশি অফিসের পোশাকেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মাসে তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কেবল সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়; নাগরিকদের
বিমানে ভ্রমণ কমানো এবং ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর মতো অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে হবে। বর্তমানে
এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ায়। ভারত ও জাপান তাদের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে
সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দিয়েছে, যা পরিবেশগত উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা
চার দিনের কর্মদিবস ঘোষণা করেছে এবং থাইল্যান্ডের সরকারি কর্মকর্তাদের এসির ব্যবহার
কমাতে টাই ও কোট বর্জন করে হালকা পোশাক পরে অফিসে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংকট সমাধানে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক
নীতিগত মতভেদ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য
জ্বালানি প্রকল্পগুলো স্থগিত করে পুনরায় তেল ও গ্যাস উত্তোলনে জোর দিচ্ছে। এমনকি মার্কিন
সরকার ফরাসি কোম্পানি টোটালএনার্জিকে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে বিশাল অংকের অর্থ
প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। বিপরীতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর
নির্ভরতা কমিয়ে ক্লিন এনার্জির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায়
জার্মানি ও ইতালির মতো দেশগুলো তাদের কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য
হচ্ছে।
আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতেও
এই সংকটের ঢেউ লেগেছে। আফ্রিকার দেশগুলো জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি সারের অভাবে খাদ্য
নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইথিওপিয়া ও তানজানিয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভর্তুকি
ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিল তাদের অভ্যন্তরীণভাবে
উৎপাদিত ইথানল ব্যবহারের মাধ্যমে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু চিলি ও আর্জেন্টিনার
মতো দেশগুলোতে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব
পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই অস্থিতিশীলতা
আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

