মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে ইরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু এবং তেল অবকাঠামোগুলোতে ‘চরম আঘাত’ হানতে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই হুমকির জবাবে ইরানও পিছু হটতে নারাজ; তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা ‘সর্বশক্তি দিয়ে’ লড়াই করবে।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান ও ইসরায়েলের
মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক
চাপ বাড়িয়ে চলেছে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাদের কার্যক্রম
বন্ধ না করে তবে দেশটির অবশিষ্ট তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে,
"খুব শিগগিরই আমরা ইরানের অধ্যায় শেষ করব," যা এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক
অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের
সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব পাল্টা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে তবে পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের
প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্রদেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। ইরান ইতোমধ্যে
হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী
তেলের দামে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প তার বিবৃতিতে ইউক্রেন ও ইউরোপীয়
মিত্রদের সমালোচনা করে বলেছেন, যারা সরাসরি এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে না, তাদের নিজেদের
জ্বালানির ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত তার
কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে যাচ্ছে। এদিকে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড
কুশনারের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও কোনো কার্যকর সমঝোতার লক্ষণ দেখা
যাচ্ছে না।
দুই দেশের এই মারমুখী অবস্থানে বিশ্বজুড়ে
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে তা
কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী
বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সংকটের যে সূচনা হয়েছে,
তা যুদ্ধের ভয়াবহতায় আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

