ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তার পঞ্চম সপ্তাহ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে। রাজধানী তেহরানের সঙ্গে কারাজ শহরের সংযোগকারী সেতুতে মার্কিন হামলায় আটজন নিহত হয়েছে। এদিকে ইস্পাহানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে আরেক হামলায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘সবকিছু শেষ হওয়ার আগে’ চুক্তি করতে ইরানের প্রতি হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ‘বেসামরিক স্থাপনায় হামলা’র মাধ্যমে ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়ছেই।
ইরান ও ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে, অন্যদিকে কাতার ও কুয়েত ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশই তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের খবর দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের তেহরান ও কারাজ শহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও এর আশেপাশে তীব্র হামলা ও অস্থিরতা চলছেই। ইসফাহানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কুয়েতের জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলা এবং সৌদি আরবেও ড্রোন ও মিসাইল ভূপাতিত করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর হাবসান গ্যাস স্থাপনা এবং কুয়েত-এর একটি বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংঘটিত এই হামলার পর উভয় স্থাপনাতেই আগুন লেগে যায়।
উপসাগরীয় দেশগুলোর উত্তেজনা: আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিহত করা মিসাইল বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ হাবসান গ্যাস স্থাপনায় পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেখানে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের একটি বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই দিনে সকালে দেশটির একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে সেখানে আগুন ধরে যায়। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলাগুলো চালিয়েছে ইরান। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। শুরুর দিকে হামলা সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে শক্তি প্রয়োগ করা হলে তারা এতে অংশ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রাতভর মধ্যপ্রাচজুড়ে সাইরেন: রাতভরই মধ্যপ্রাচজুড়ে সাইরেন বেজেছে। যুদ্ধের ৩৫তম দিনে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে কোথায় কোথায় আঘাত হানল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘লক্ষ্যভিত্তিক হামলা’ সম্পন্ন করেছে। এ হামলায় হিজবুল্লাহর ১৫ সদস্য নিহত হয়েছে বলে ভাষ্য আইডিএফের। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরের বাসিন্দাদের সরিয়ে যেতে নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
তেহরানের বাসিন্দারা বলছেন, রাজধানীর কাছে একটি সেতুতে বৃহস্পতিবার হামলার পর তারা ভীষণ আতঙ্কে রয়েছেন।
ইসরায়েলের আইডিএফ জানিয়েছে, ইরান থেকে রাতভর তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র জানান, তারা ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে।
কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার পর জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে। এছাড়া একটি বিদ্যুৎ ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবিতে ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষের একটি ঘটনা জানানো হয়েছে। সেখানে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে মোকাবিলা করছিল।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শুক্রবার কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। বাহরাইনে সাইরেন বাজানোর পর জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হরমুজ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভোট শনিবার: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পূর্বনির্ধারিত ভোটাভুটি একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাহরাইনের উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর এই ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের পূর্বনির্ধারিত ভোটাভুটির সময় একদিন পিছিয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র বাহরাইনের এই খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবে। যার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের এই প্রধান করিডোরটিতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথটি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ শেষ করার দাবি ইরানের: ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ তার দেশকে 'বিজয় ঘোষণা' করার এবং এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যা বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং ভবিষ্যতে বড় কোনো যুদ্ধের পথ বন্ধ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সাময়িকী 'ফরেন অ্যাফেয়ার্স'-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জারিফ এই মন্তব্য করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আলোচনার প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত এই কূটনীতিক সেখানে একটি রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
জারিফের প্রস্তাবের মূল দিকগুলো হলো: ১. নিষেধাজ্ঞা বনাম পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ: ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে হবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। জারিফের মতে, ওয়াশিংটন আগে এই শর্তে রাজি না হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি 'পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তি' স্বাক্ষরিত হওয়া উচিত। যেখানে উভয় দেশ অঙ্গীকার করবে যে তারা ভবিষ্যতে একে অপরের ওপর কোনো হামলা চালাবে না।
৩. অর্থনৈতিক সম্পর্ক: জারিফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি আমেরিকান ও ইরানি—উভয় দেশের সাধারণ মানুষের জন্য লাভজনক হবে বলে তিনি মনে করেন।
৪. অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে মনোযোগ: সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এসব পদক্ষেপ সফল হলে ইরানের সরকারকে বিদেশি শত্রুর হাত থেকে দেশ রক্ষার পেছনে শক্তি ও অর্থ কম ব্যয় করতে হবে। ফলে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে অনেক বেশি মনোনিবেশ করতে পারবে।
জারিফ মনে করেন, তার প্রস্তাবিত এই কৌশলের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধটি তেহরানের জন্য 'অনুকূল শর্তে' শেষ করতে সক্ষম হবে।
চীন-পাকিস্তানের ৫ প্রস্তাব: বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে আলোচনার পর উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে’ পাঁচটি প্রস্তাব রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করা। সংঘাত যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য কাজ করা; ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনা শুরু করা। এই আলোচনা শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমর্থন করবে চীন ও পাকিস্তান; বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা; হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের পথ নিরাপদ করা; জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে মিল রেখে একটি সমন্বিত শান্তি কাঠামো অবশ্যই তৈরি করা।
খাদ্যের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা: জাতিসংঘ জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মার্চে বিশ্বে খাদ্যের দাম বেড়েছে, যা ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ফুড প্রাইস ইনডেক্স গত মাসে গড়ে ১২৮.৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘের সংস্থাটি ২০২৫ সালের জন্য বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে রেকর্ড ৩.০৩৬ বিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি।
এই পরিসংখ্যান এমন সময়ে এসেছে, যখন জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে ইউক্রেনের যুদ্ধ এখনও বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সম্পদ ধ্বংসের হুমকি ইরানের: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কোনো অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সম্পদ ও স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী।
ইরানের 'খাতাম আল-আনবিয়া' কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, 'আমাদের কোনো অবকাঠামো স্পর্শ করার দুঃসাহস দেখালে আমরা এই অঞ্চলে আপনাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) সমস্ত সম্পদ এবং অবকাঠামো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব।'
জোলফাগারি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার যে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন, তার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি ট্রাম্পের এই হুমকি কার্যকর করা হয়, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরো অঞ্চল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এছাড়া যেসব মিত্র দেশে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেই সব দেশের মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার আওতায় আসবে।
আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করে জোলফাগারি বলেন, ‘যেসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আতিথেয়তা দিচ্ছে, তারা যদি নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চায় তবে অবিলম্বে আমেরিকানদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা উচিত।’
যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন পোপ লিও: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও ১৪। গতকাল সকালে দুই নেতার মধ্যে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এই আহ্বান জানান।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ইস্টার উপলক্ষে আয়োজিত এই ফোনালাপের মূল আলোচনার বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে 'একটি ন্যায়সংগত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি' প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা। এ লক্ষ্যে পোপ 'কূটনৈতিক সংলাপের সব সম্ভাব্য পথ পুনরায় উন্মুক্ত করার' ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

