পৃথিবীর ছবি তুলেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারী
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৫
চাঁদের পথে যাত্রা করা আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবীর কিছু ছবি তুলেছেন। সেই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে নাসা।
মহাকাশ সংস্থাটি জানায়, মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এসব ছবি তুলেছেন। এর আগে ক্রুরা শেষবারের মতো ইঞ্জিন চালু করে চাঁদের পথে নিজেদের অবস্থান ঠিক করে নেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রথম ছবিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’। এতে আটলান্টিক মহাসাগরের বিশাল নীল অংশ স্পষ্ট দেখা যায়। পৃথিবীর চারপাশে পাতলা বায়ুমণ্ডলের আলোও ধরা পড়ে। সূর্যকে আড়াল করে থাকায় এমন দৃশ্য তৈরি হয়েছে। দুই মেরুতেই সবুজ অরোরা দেখা যায়।
ছবিতে পৃথিবীকে কিছুটা উল্টো মনে হয়। বাম পাশে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরিয়ান উপদ্বীপ দেখা যায়। ডান পাশে দেখা যায় দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব অংশ।
নাসা জানায়, ছবির ডান নিচে যে উজ্জ্বল গ্রহটি দেখা যাচ্ছে, সেটি শুক্র।
শুক্রবার ভোরে ‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন’ বা টিএলআই বার্ন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এসব ছবি তোলা হয়। এই বার্নের মাধ্যমেই ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়ে। এতে থাকা চারজন নভোচারী এখন চাঁদের দিকে দুই লাখ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। বর্তমানে মিশনটি চাঁদের দূরের প্রান্ত দিয়ে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসার মতো একটি পথে চলছে।
১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে গেল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা চাঁদের দূরের প্রান্ত ঘুরে আসবেন ৬ এপ্রিল। আর ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফেরার কথা রয়েছে।
বার্ন শেষ হওয়ার পর নভোচারীরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তারা চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর অন্ধকার পাশের এক সুন্দর দৃশ্য দেখছেন।
পরে কমান্ডার ওয়াইজম্যান নিয়ন্ত্রণকক্ষে যোগাযোগ করে মহাকাশযানটির জানালা পরিষ্কার করার উপায় জানতে চান। মহাকাশ দেখার আগ্রহে তারা জানালাগুলো নোংরা করে ফেলেছিলেন। শুরুর দিকে এত দূর থেকে ছবি তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন ওয়াইজম্যান। কারণ ছবির আলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছিল। তিনি বলেন, বাড়ির পেছনে গিয়ে চাঁদের ছবি তোলার মতো অনুভূতি হচ্ছে তার।
তার তোলা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, পৃথিবী দিন ও রাত- এই দুই ভাগে বিভক্ত। আলো আর অন্ধকারের এই সীমারেখাকে বলা হয় ‘টার্মিনেটর’।
পরে নাসা আরও একটি ছবি প্রকাশ করে। সেখানে পৃথিবী প্রায় পুরোই অন্ধকারে ঢাকা। তবে রাতের অংশে মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক আলো জ্বলজ্বল করছে।
২০২৬ সালের এই ছবির সঙ্গে অ্যাপোলো ১৭ এর নভোচারীদের ১৯৭২ সালে তোলা একই ধরনের একটি ছবির তুলনাও প্রকাশ করেছে নাসা। সেটিই ছিল মানুষের শেষবার চাঁদে যাওয়ার সময়।
নাসা লিখেছে, ‘গত ৫৪ বছরে আমরা অনেক এগিয়েছি। কিন্তু একটা জিনিস বদলায়নি। মহাকাশ থেকে আমাদের বাড়ি এখনো দারুণ সুন্দর দেখায়।’

