Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, ইরানের প্রত্যাখ্যান

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪২

ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, ইরানের প্রত্যাখ্যান

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার গতকাল ছিল ৩৭তম দিন। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাব আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক, বেসামরিক, নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

এছাড়াও লেবানানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল, সেখানেও বহু হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এদিকে, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে না দিলে ইরানকে ‘নরকের’ স্বাদ নিতে হবে বলে আবারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত করা না হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে আছে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ। ট্রাম্প এর আগে ইরানকে এই প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য আজ সোমবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই কড়া বার্তা দিলেন তিনি।

এদিকে, ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং দুটি পরিবহন বিমান, দুটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)

ট্রাম্প তার ৬ এপ্রিলের আলটিমেটামের কথা উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। এখন হাতে আছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই তাদের ওপর চরম ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।’

আর চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ইরান পরিকল্পনা এবং ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা’ অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য একটি ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

ইরানের হামলায় তছনছ ইসরায়েল: ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য আগ্রাসন শুরু করলেও এখন প্রতিনিয়ত সরকারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে ইসরায়েলেই। দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ, যুদ্ধবন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নামছে ইসরায়েলিরা। সর্বশেষ শনিবার (৪ এপ্রিল) যুদ্ধবিরোধী ব্যানার বহন করে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তেল আবিবে শত শত ইসরায়েলি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে গণজমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা একটি কেন্দ্রীয় চত্বরে জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: ‘বোমা নয়-আলোচনা করুন! অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করুন!’

ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল গোষ্ঠী ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ এর সহ-পরিচালক অ্যালন-লি গ্রিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখানে ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে গণহত্যা বা পরিকল্পিত আক্রমণ বন্ধের দাবি জানাতে এসেছি।’ 

মার্কিন উদ্ধারকারী বিমান ভূপাতিত: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। বিমানটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইসফাহানে নিখোঁজ এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধারের অভিযানে নিয়োজিত ছিল বলে জানা গেছে।

ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ছবি পোস্ট করেছে, যেখানে একটি মাঠ থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। ছবিটির ক্যাপশনে সংস্থাটি লিখেছে, ‘বিশাল এক পরাজয় আড়াল করতে ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টা।’

আইআরজিসি-র এই দাবি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার: ইরানের মাটিতে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই-র নিখোঁজ ক্রু সদস্যের সন্ধান মিলেছে। মার্কিন সরকারের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরা-কে জানিয়েছেন, ‘তীব্র গোলাগুলির’ পর ওই চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ওই ক্রুকে নিরাপদে ইরান থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে। 

একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় খুব ভোরে মার্কিন বাহিনী ওই ক্রুকে ইরানের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উদ্ধার করে। শুক্রবার তার অবস্থান চিহ্নিত হয়েছিল।

সূত্রের খবর, গত রাতে ইরানেই ওই ক্রু সদস্যের খোঁজ পায় মার্কিন উদ্ধারকারী দল। এর পরেই তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে উদ্ধারকাজ চলাকালীন ইরান ও মার্কিন—দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় শুরু হয়। এতে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তবে ওই মার্কিন সেনা পুরুষ নাকি নারী, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট উদ্ধারে গিয়েও নিহত ৫: ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং দুটি পরিবহন বিমান, দুটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

গতকাল ইরানের গণমাধ্যম আইআরজিসি-র এক মুখপাত্রের সূত্রে জানায়, এই উদ্ধার অভিযানে ইরানি বাহিনী দক্ষিণ ইসফাহানে দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্রের মতে, ভূপাতিত বিমানগুলোর মধ্যে ইসফাহানের দক্ষিণে একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ছিল। এ ছাড়াও, ইরানি সেনাবাহিনী একটি ইসরায়েলি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, প্রত্যাখ্যান ইরানের: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তিচুক্তি মেনে না নিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড।

খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ হুমকিকে ‘অসহায়, স্নায়ুচাপগ্রস্ত, ভারসাম্যহীন ও নির্বোধ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রু যদি কোনো আগ্রাসন চালায়, তাহলে আমরা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহৃত সব অবকাঠামো এবং জায়নবাদী শাসনের অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালাব।’

এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম চুক্তি করতে বা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে। সময় ফুরিয়ে আসছে—আর ৪৮ ঘণ্টা, তারপর তাদের ওপর নরক নেমে আসবে। স্রষ্টার রক্ষা করুন।’

জবাবে আলিয়াবাদি সতর্ক করে বলেন, ‘এই বার্তার সরল অর্থ হলো, নরকের দরজা তোমাদের জন্যই খুলবে।’

সামনে বড় চমক, ইরানের হুঁশিয়ারি: ইরানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান পরিকল্পনা এবং ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা’ অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।

ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি  হুঁশিয়ারিসহ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

ইরানে দুজনের ফাঁসি কার্যকর: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান। চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাঁরা বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করেছিলেন বলে দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে।

আজ রোববার বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’-এ বলা হয়, ‘মোহাম্মদ-আমিন বিগলারি ও শাহিন ওয়াহেদপরাস্তকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মামলাটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রায় বহাল রাখার পর এ দণ্ড কার্যকর করা হয়।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই দুই ব্যক্তি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা গত জানুয়ারি মাসে চরম আকার ধারণ করেছিল।

আবুধাবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আবুধাবির বোরুজ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার একাধিক স্থানে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বলেছে, আবুধাবির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা প্রতিহত করার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষেত্রটির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। 

কর্তৃপক্ষ জনগণকে তথ্যের জন্য শুধু সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি এমন গুজব কিংবা খবর শেয়ার করা এড়িয়ে চলতে বলেছে।

আরব আমিরাতের জাতীয় জরুরি সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আজ রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪৪টা মিনিটে আমিরাতের আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি শনাক্ত করে এবং সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করে।

মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে হামলা ইরানের: বাহরাইনের উত্তরাঞ্চলে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী প্রতিশোধমূলক অভিযানের ৯৫তম দফায় এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

গত শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ বলেছে, “আজ (শনিবার) সকালে একটি ব্যাপক ও বহুমুখী অভিযান শুরু করা হয়েছে।”

অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪-এর অংশ হিসেবে পরিচালিত এই প্রতিশোধমূলক হামলায় আইআরজিসি’র উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, যেমন- হজ কাসেম, খাইবার শেকান এবং ক্বদর ব্যবহার করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন হিমার্স রকেট ব্যাটারি এবং উত্তর বাহরাইনে থাকা একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘এই অভিযানে ধ্বংস হওয়া মূল লক্ষ্যবস্তুগুলোর’ মধ্যে ছিল।

তাদের বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত মার্কিন হিমার্স লঞ্চার ইউনিট, একটি কমান্ড সেন্টার এবং ঊর্ধ্বতন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকেও লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহর ৯০ যোদ্ধাকে হত্যা: ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ৯০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হিজবুল্লাহর আরও দুই যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং তাদের বিমান বাহিনী ওই গোষ্ঠীর কিছু অবকাঠামো ধ্বংস করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ মার্চের শুরুতে একটি রকেট হামলা চালায়। তারপর থেকে ইসরায়েল রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়ে আসছে এবং লেবাননের ভূখণ্ডে তাদের আগ্রাসন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়ি-ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ১০ হাজারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং লেবাননের শত শত নাগরিক নিহত হয়েছে। ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরেও সংঘাত বন্ধ হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর প্রথম দিন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। যৌথ সামরিক আগ্রাসনের এক মাসেরও বেশি সময় পর, এই অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

এই হামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ২৭ মার্চের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস কমান্ড ও কন্ট্রোল প্লেনের ক্ষতিসাধন।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর চালানো প্রতিশোধমূলক হামলায় রাডার ব্যবস্থা, টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রিপার ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন