মানবিক সংকট
ইসরায়েলি আগ্রাসনে লেবাননের ১২ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৭
বৈরুতের জলসীমান্ত এলাকায় অনানুষ্ঠানিক শিবিরের প্রবেশপথে বাস্তুচ্যুত কিশোররা।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক স্থল ও আকাশ অভিযানের ফলে দেশটিতে নজিরবিহীন মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গত এক মাসে লেবাননের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ বা প্রতি পাঁচজনের একজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এই ১২ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৩ লক্ষ ৫০ হাজারই শিশু।
স্বতন্ত্র মনিটরিং সংস্থা ‘এসিএলইডি’ -এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ
থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ১,৮৪০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের জনস্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, এসব হামলায় অন্তত ১,৪৯৭ জন নিহত এবং ৪,৬৩৯ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর আস্তানা
লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল
কাৎজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা হলো লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন শহরগুলো ধ্বংস
করা এবং দক্ষিণ লেবাননে দখলদারিত্ব বজায় রাখা। ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবানন
ও বেকা উপত্যকার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও রাস্তাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশেষ করে
দালাফা সেতু এবং সোহমোর ও ইয়োহমোর এলাকার সংযোগকারী পথগুলো লক্ষ্যবস্তু করায় ওই অঞ্চলগুলো
মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের হাসপাতাল ও জরুরি
জনসেবা পাওয়ার সুযোগ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্যমতে,
ইসরায়েলি বাহিনীর জারিকৃত ‘বাধ্যতামূলক এলাকা ত্যাগের নির্দেশ’ এখন লেবাননের প্রায় ১,৪৭০ বর্গকিলোমিটার
এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা দেশটির মোট ভূখণ্ডের ১৪ শতাংশ। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলী, বেকা
অঞ্চল এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে জহরানি নদী পর্যন্ত এলাকাগুলো এখন
জনশূন্য হয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সাম্প্রতিক উপাত্তের
সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, লেবাননের এই বাস্তুচ্যুতি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি
সংকটের একটি। বিনত জবেইল, নাবাতিহ এবং টায়ার এর মতো পৌরসভাগুলোতে সবচেয়ে বেশি হামলা
চালানো হয়েছে। বর্তমানে বৈরুতের ওয়াটারফ্রন্টসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে তাবু টানিয়ে
হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে,
যুদ্ধের বিস্তার ও চলাচলের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট
দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

