লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ভুল এবং অগ্রহণযোগ্য: ইভেট কুপার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৯
ইভেট কুপার
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। লন্ডন সিটি নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মুহূর্তে কোনোভাবেই পুনরায় যুদ্ধে ফিরে যাওয়া উচিত হবে না। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরেনি।
উল্টো লেবাননের ওপর ইসরায়েলের বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারো বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসি রেডিও
৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "লেবাননে ইসরায়েলের এই হামলা সম্পূর্ণ ভুল এবং
অগ্রহণযোগ্য। আমরা সংঘাতের অবসান চাই এবং এই যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত দেখতে
চাই।"
এদিকে বুদাপেস্টে এক বক্তৃতায় মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, "ইরানিরা হয়তো ভেবেছিল লেবানন এই চুক্তির অংশ, কিন্তু আসলে তা নয়। আমরা কখনোই এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।" যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইভেট কুপার তাঁর ভাষণে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, "এই
গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। এর
প্রভাবে মানুষের মর্টগেজ রেট, পেট্রোল এবং খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ইরান বিশ্ব
অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে, যা সমুদ্র আইনের পরিপন্থী।"
তিনি আরও জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে
আটকা পড়া জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিককে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের
প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে এবং
হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের
পর তিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের
সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নৌপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করার বিষয়ে
আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

