ইউক্রেন যুদ্ধ: বাল্টিক দেশগুলোকে ক্রেমলিনের হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০৩
রাশিয়ার বাল্টিক সাগরে অবস্থিত উস্ত-লুগা বন্দরের নিকটবর্তী তেল সংরক্ষণাগারে হামলার পর ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দেড় হাজার দিন পেরিয়ে গেলেও উত্তেজনার পারদ কমছে না। সম্প্রতি রাশিয়ার বাল্টিক তেল বন্দরগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর এবার প্রতিবেশী বাল্টিক দেশগুলোকে সরাসরি হুমকি দিয়েছে ক্রেমলিন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যদি কোনো তৃতীয় দেশ ইউক্রেনীয় ড্রোন চলাচলের
জন্য তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়, তবে তাদের চরম ঝুঁকি মোকাবিলা করতে
হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার প্রিমোরস্ক এবং উস্ট-লুগা
বন্দরের তেল রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, রাশিয়া
নিজেই বারবার ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ড্রোন পরিচালনা করে আসছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় রাশিয়া ইরানকে সাহায্য
করছে—এমন অকাট্য প্রমাণ
থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তা উপেক্ষা করছে। জেলেনস্কির মতে, হোয়াইট হাউস পুতিনকে
অতিরিক্ত 'বিশ্বাস' করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের
আলোচকরা রাশিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা
গত এক বছরে পাঁচবার মস্কো সফর করলেও এখন পর্যন্ত কিয়েভ সফর করেননি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের
তথ্যমতে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ওডেসার একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং
জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে গ্লাইড বোমা হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাল্টা
ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেন অধিকৃত ক্রিমিয়ার ফিওডোসিয়াতে একটি তেল টার্মিনাল ধ্বংস করার
দাবি করেছে। এছাড়া দোনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও রাডার
লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায়
ফ্রান্স তাদের সমরাস্ত্রের মজুদ নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে
ফ্রান্স তাদের বিস্ফোরক ড্রোনের মজুদ ৪০০ শতাংশ এবং ক্রুজ মিসাইলের মজুদ ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি
করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি সাগরে রাশিয়ার 'শ্যাডো ফ্লিট' বা অবৈধ তেলবাহী জাহাজের
চলাচল রুখতে কঠোর আইন প্রণয়ন করছে প্যারিস। এখন থেকে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজের ক্ষেত্রে
দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ ইউরো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এদিকে একটি ফাঁস হওয়া
অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পিটার সিয়ার্তো ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সের্গেই লাভরভকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। হাঙ্গেরি সরকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার
না করলেও এই ঘটনা ইইউ এবং ইউক্রেনের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

