মোদি সরকারের জনপ্রিয়তার বড় পরীক্ষা বিধানসভা নির্বাচন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০৬
ভারতের দুটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এই নির্বাচনকে জনপ্রিয়তার একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার আসাম ও কেরালা রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত
অঞ্চল পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ অঞ্চলে
(পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুসহ) মোট ১৭ কোটি ৪০ লাখ ভোটার রয়েছে, যা দেশের মোট ভোটারের
প্রায় ১৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার তিনটি অঞ্চলে মোট ২৯৬টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে: আসামে ১২৬টি,
কেরালায় ১৪০টি এবং পুদুচেরিতে ৩০টি।
আসামে বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে এবং
পুদুচেরিতে তারা ক্ষমতাসীন জোটের অংশ। তবে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও তামিলনাড়ুতে বিজেপি
কখনোই সরকার গঠন করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল ভার্মা বলেন, "বিজেপির
জন্য এটি দক্ষিণ ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের বড় সুযোগ। অন্যদিকে কংগ্রেসের
মতো বিরোধী দলগুলোর জন্য এটি টিকে থাকার লড়াই।"
এবারের নির্বাচনে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে
দাঁড়িয়েছে 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। বিরোধী দলগুলোর
অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯০ লাখ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে,
যাদের একটি বড় অংশ মুসলিম। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বিপুল সংখ্যক
ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এই
অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তালিকায় স্বচ্ছতা আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক রাজনীতির মেরুকরণ: আসামে অনুপ্রবেশ
ও নাগরিকত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করেই মূলত লড়াই হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার
নেতৃত্বে বিজেপি তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া। কেরালায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দিক
থেকে এগিয়ে থাকা এই রাজ্যে লড়াই হচ্ছে বামপন্থী ও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে।
পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই
দফায় এখানে ভোট হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে 'বহিরাগত' শক্তি হিসেবে
তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিজেপি অনুপ্রবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে প্রচার চালাচ্ছে।
তামিলনাড়ুতে ২৩ এপ্রিলের নির্বাচনে চিরাচরিত দুই আঞ্চলিক দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-এর
পাশাপাশি সুপারস্টার বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
আগামী ৪ মে এই পাঁচ অঞ্চলের ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

